
বিহারে লালুর জমানাকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করে বিরোধীরা। রবিবার সিঙ্গুরের জনসভা থেকে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকে ‘মহা জঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ‘১৫ বছরের মহা জঙ্গলরাজ বদলাতে হবে।’ সিঙ্গুরের মঞ্চ থেকে মোদী বলেন, 'আমি পশ্চিমবঙ্গের তরুণ, কৃষক, মা-বোনেদের যথাসম্ভব সেবা করতে চাই। কিন্তু তৃণমূল সরকার এখানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পকে আপনাদের কাছে পৌঁছোতেই দেয় না। এদের মোদীকে নিয়ে সমস্যা, তা আমি বুঝি। বিজেপির সঙ্গে শত্রুতা, তা-ও আমি বুঝি। কিন্তু তৃণমূল তো পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই শত্রুতা করছে। তৃণমূল এ রাজ্যের তরুণ, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং মা-বোনদের সঙ্গে শত্রুতা করছে।'
মোদী বলেন, 'মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম খুলেছে। বিভিন্ন রাজ্য সেখানে নিজ নিজ এলাকার মৎস্যজীবীদের নাম রেজিস্টার করছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তাতে ‘ব্রেক’ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি বার বার এ রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে চিঠি লিখি। মুখ্যমন্ত্রী চিঠি পড়েন না। কিন্তু অফিসারদের তো পড়তে দিন। তৃণমূল সরকার এখানকার মৎস্যজীবী যোজনায় রেজিস্ট্রেশনে কোনও সাহায্য করছে না। তৃণমূল রাজ্যের মৎস্যজীবীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করছে।' যুবসমাজের সঙ্গে তৃণমূল সরকার ছেলেখেলা করছে বলে অভিযোগ করেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাবনা বিপুল— এখানে রয়েছে বহু বৃহৎ নদী, দীর্ঘ উপকূলরেখা, উর্বর কৃষিজমি এবং প্রতিটি জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। এখানকার মানুষের মেধা, দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা রাজ্যের বড় শক্তি। সেই কারণেই বিজেপি জেলা-ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে, যাতে প্রতিটি জেলার মানুষ সরাসরি তার সুফল পান। ধনিয়াখালির শাড়ি, পাট শিল্প এবং নানা ধরনের হস্তশিল্প রয়েছে। ‘এক জেলা, এক পণ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে এসব পণ্যের উৎপাদন ও প্রচারে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। বিজেপি সরকার এলে প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি নেওয়া হবে এবং পরিবেশবান্ধব পাট শিল্পকে আরও উৎসাহিত করা হবে।
মোদী বলেন দেশে হাজারও আধুনিক পিএমশ্রী স্কুল খোলা হচ্ছে, কিন্তু সেই সুবিধাও বাংলা পাচ্ছে না। দেশের যে সরকার বিকাশকে আটকায়, গরিবদের কল্যাণমূলক কাজে বাধা হয়, দেশেরবাসী তাদের মেনে নেবে না। দিল্লিতে এখন আয়ুষ্মান যোজনায় গরিবরা বিনা পয়সায় চিকিৎসা পান। এবার বঙ্গবাসী নির্মম সরকারকে শাস্তি দেবে। মোদী বলেন, 'ত্রিপুরায় যখন বামপন্থীদের সরকার ছিল, তখন ১০০টির মধ্যে চারটি বাড়িতে প্রশাসনের তরফে পানীয় জল সরবরাহ হত। এখন বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকারের জন্য আজ সেখানে ১০০টির মধ্যে ৮৫টি বাড়িতে পানীয় জল সরবরাহ হচ্ছে। এখন পশ্চিমবঙ্গে অর্ধেক মানুষের বাড়িতে জল সরবরাহ হয় না। ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতা না-এলে সেখানে এখনও সেই পরিস্থিতিই থাকত। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এলে এই পরিস্থিতি বদলাবে।'
মোদী বলেন,'এখানে কলেজে ধর্ষণ এবং হিংসায় লাগাম টানতে বিজেপিকে ক্ষমতা আনা দরকার। আপনার একটি ভোটই নিশ্চিত করবে এ রাজ্যে সন্দেশখালির মতো ঘটনা আর হবে না। আপনার ভোটই নিশ্চিত করবে যে, আগামী দিনে ফের কখনও হাজার হাজার শিক্ষক নিজেদের চাকরি হারাবেন না। হুগলিকে তারা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির জন্য বদনাম করেছে। এ রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে। কিন্তু এখানে মাফিয়াদের ছাড় দিয়ে রাখা হয়েছে। এখানে সব কিছুতে সিন্ডিকেট ট্যাক্স বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই সিন্ডিকেট ট্যাক্স এবং মাফিয়াবাদকে বিজেপিই শেষ করবে। এটাই মোদীর গ্যারান্টি।'