Advertisement

Pratikur Rahaman: আলিমুদ্দিনে যাননি, বিমান বসুকে ফোনে কী বললেন প্রতীক উর?

প্রতীক উর রহমানের আচমকা দল ছাড়ার ঘোষণায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে CPIM-এর অন্দরে। চিঠি লিখে দল ছাড়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি। তবে এই তরুণ তুর্কীর মানভঞ্জন করতে আসরে নেমে পড়েছেন বিমান বসু, সূর্যকান্ত মিশ্রর মতো বর্ষীয়ান নেতারা। ফোনে কী কথা হল?

প্রতীক উর রহমান প্রতীক উর রহমান
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 18 Feb 2026,
  • अपडेटेड 8:18 AM IST
  • প্রতীক উর রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বিমান বসুর
  • মানভঞ্জনে আসরে সূর্যকান্ত মিশ্রও
  • কী কথা হল তরুণ নেতার সঙ্গে?

ভোটের আগে রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে একটি নাম। প্রতীক উর রহমান। CPIM-এর এই তরুণ নেতার আচমকা দল ছাড়ার ঘোষণায় আলোড়ন পড়ে গিয়েছে বাম 'অলিন্দে'। গত সোমবার ১৬ ফেব্রয়ারি সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর একটি চিঠি। যেখানে তিনি দল ছাড়ার কথা স্পষ্ট জানিয়েছেন। চিঠিটি কুণাল ঘোষ পোস্ট করায় জল্পনা আরও তুঙ্গে ওঠে। প্রতীক উর যদিও জানাচ্ছেন, তাঁর যা বক্তব্য তা দলের অন্দরেই বলেছেন। তিনি নীরবতা না ভাঙলেও তাঁর তৃণমূলে যোগদান, এমনকী ভোটে দাঁড়ানোর জল্পনা এখন সর্বত্র। আবার দলের বেশিরভাগ কমরেডই বলছেন, 'প্রতীক উরের মতো লড়াকু তরুণ নেতাকে দলে প্রয়োজন।' সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটাতে আসরে নেমেছে শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, প্রতীক উরের কাছে ফোন গিয়েছে বিমান বসুর। তবে তাঁর সঙ্গেও কি দেখা করতে চাইলেন না প্রাক্তন এই SFI সভাপতি? 

বিমান বসুকে কী উত্তর প্রতীক উরের? 
সংবাদমাধ্যমে প্রতীক উর নিজেই স্বীকার করেছেন, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু তাঁকে ফোন করেছিলেন। জানা যাচ্ছে, একটি অচেনা নম্বর থেকে তাঁর কাছে ফোন এসেছিল। বিমান বসু তাঁকে আলিমুদ্দিনে এসে দেখা করতে বলেছেন। তবে সূত্রের খবর, মঙ্গলবার এই ফোন এলেও তিনি মুজফফর আহমেদ ভবনে যাননি। ফলে এখনই যে বরফ গলছে তা বলা চলে না। 

প্রতীক উর আরও জানিয়েছেন, বিমান বসুর আদেশ তাঁর কাছে শিরধার্য তবে এখনই তিনি দেখা করতে চান না বলেই জানিয়েছেন তাঁকে। এর মাঝেই বুধবার রয়েছে CPIM রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ২ দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক। প্রতীক উর রাজ্য কমিটির সদস্য। সেক্ষেত্রে এই ২ দিনের বৈঠকে তিনি উপস্থিত থাকেন কি না, সেদিকে সকলেরই নজর থাকবে। তরুণ নেতার মানভঞ্জনের জন্য রাজ্য কমিটির বৈঠকে কী আলোচনা হয়, তা নিয়েও চর্চা চলছে। তবে রাজ্য কমিটি ছাড়ার কথাও প্রতীক উর সাফ জানিয়েছিলেন চিঠিতে। ফলে তিনি আদৌ বৈঠকে থাকবেন কি না, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, কেবলমাত্র বিমান বসু নয়, সূর্যকান্ত মিশ্রও প্রতীক উরের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন। জেলা এবং রাজ্য স্তরের নেতৃত্বের কোন কর্মপদ্ধতির সঙ্গে তরুণ নেতা খাপ খাইয়ে নিতে পারছেন না, তা জানার চেষ্টা করতে পারেন এই বর্ষীয়ান বাম নেতা। 

তৃণমূলে যোগ দেবেন? 
তিনি তৃণমূলের টিকিটে মগরাহাট বিধানসভার প্রার্থী হতে চলেছেন, দল ছাড়ার কথা জানানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই জল্পনা ভাসতে শুরু করেছে। সময় সবচেয়ে বড় শিক্ষক বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করেছেন প্রতীক উর। এমনতী, তাঁর তৃণমূলে যোগদানের জল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, 'আমার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী তা সময় উত্তর দেবে।' তাঁর সঙ্গে একাধিক দলের তরফে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন। আবার বন্ধু তথা সহযোদ্ধা সৃজন ভট্টাচার্যের নাম যখন দল ছাড়া এবং তৃণমূলে যোগদানের তালিকায় উঠে এসেছে, তখন SFI-এর প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক বলেন, 'যাঁরা এ ধরনের কথা বলছেন, তাঁর হয় অর্বাচীন নয় শয়তান।'

CPIM-এর বর্তমান রাজনীতিতে প্রতীক উর রহমান কেবল একজন যুবনেতা নন, বরং দলের লড়াকু মানসিকতার প্রতীক। SFI-এর দু’বারের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি এবং গত লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা এই তরুণ নেতার দলত্যাগের জল্পনা এখন আলিমুদ্দিনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের দক্ষিণবঙ্গের নেতাদের মতে, মহম্মদ সেলিম যখন রাজ্য সম্পাদক, সেই সময়ে প্রতীক উরের মতো প্রান্তিক মুসলিম সমাজ থেকে উঠে আসা এক লড়াকু নেতার প্রস্থান সংখ্যালঘু স্তরে ভুল বার্তা দিতে পারে। এখন দেখার, বিমান বসুর মধ্যস্থতায় তাঁর ‘মানভঞ্জন’ হয়, নাকি ভোটের মুখে এই তরুণ তুর্কী আলিমুদ্দিনের হাত থেকে বেরিয়ে যায়। 

 

Read more!
Advertisement
Advertisement