
অবশেষে জালে মালদার 'মাস্টারমাইন্ড'। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হল মোফাক্কেরুল ইসলামকে। এই AIMIM নেতাকে দেখা গিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের ২ ব্লকের অফিসের বাইরে জোটবদ্ধ জনতার সামনে ভাষণ দিতে। একটি গাড়ির বনেটে উঠে তিনি যে ভাষণ দিচ্ছিলেন। যেটি উস্কানিমূলক ছিল বলেই মত অধিকাংশের। এই উস্কানির জেরেই বিক্ষুব্ধ মানুষ ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও করেছিলেন বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর ছক কষেছিলেন AIMIM নেতা মোফাক্কেরুল। কিন্তু পালানোর আগেই হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি। CID গ্রেফতার করার পর ফেসবুক লাইফ করে তিনি বলেন, 'গ্রেফতার হলাম বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে। ডি ভোটার বা ডিলিটেড ভোটার নিয়ে প্রতিবাদ স্থলে ছিলাম সেদিন। তাই গ্রেফতার করা হল আমায়।' ঘটনার পর থেকেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। বাড়িতে গিয়েও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মালদার কালিয়াচকের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ৯ ঘণ্টা ধরে ৩ মহিলা সহ ৭ বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও, পথ অবরোধ করে বিক্ষোভের ঘটনা নিয়ে এখন আলোচনা সর্বত্র। কালিয়াচকের ২ ব্লক অফিসের বাইরে বিপুল সংখ্যক মানুষের জনসমাগমের যে চিত্র চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতেই দেখা গিয়েছে গাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে মোফাক্কেরুল উত্তেজিত ভাবে ভাষণ দিচ্ছেন। আঙুল উঁচিয়ে, হুঁশিয়ারির সুরে তাঁর ভাষণে পড়ছে হাততালি। বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন তাঁর ভাষণ শুনতে। যা রীতিমতো চর্চার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। কালিয়াচকের ঘটনায় তাঁকেই মূল অভিযুক্ত ধরা হচ্ছে। তিনি ২০২১ সালে AIMIM-এর ইটাহারের প্রার্থী ছিলেন। সে সময়েও তাঁর একাধিক মন্তব্য নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তভার গ্রহণ করেছে NIA। তদন্তকারী একটি টিম শুক্রবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টও নথিভূক্ত হয়েছে বলে খবর।