
সাংসদ সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal)-এর জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শনিবার এই কথা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya)। সম্প্রতি সুনীল মণ্ডল তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
এদিন সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal) দলের হেস্টিংস অফিসে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁর ওপর হামলা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় (Kailash Vijayvargiya) জানিয়েছেন সুনীল মণ্ডলকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে লিখিত আর্জি জানানো হয়েছে। দ্রুত তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
গোটা ঘটনার কথা বিজেপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে জানিয়েছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয় অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন। তিনি ফোনেও তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন। রাজ্যের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন তাঁরা। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই, গণতন্ত্র বলে কিছু নেই। বিরোধী দলের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
গত শনিবার বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের এদিন হেস্টিংসে দলের নতুন নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই মতো সুনীল মণ্ডল তাঁর নতুন দলের দফতরে ঢুকতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েন। সাংসদের গাড়ি ঘিরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। তাঁকে কালো পতাকা দেখানোর পাশাপাশি রাস্তায় শুয়ে পড়ে সুনীল মণ্ডল (Sunil Mondal)-এর গাড়ি আটকানোর চেষ্টা করা হয়। দলের কর্মী ও সুনীল মণ্ডলের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা কোনও মতে সাংসদকে উদ্ধার করে দলীয় অফিসে নিয়ে যান। এর পরেই কালক্ষেপ না করে পুরো ঘটনা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। পাশাপাশি অমিত শাহের সঙ্গে ফোনেও কথা হয় তাঁর। বিজেপি সূত্রের খবর, কৈলাস বিজয়বর্গীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে যে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে, ফের এক সাংসদের গাড়িতে হামলা সেই ঘটনারই প্রমাণ।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ২ দিনের সফরে রাজ্যে এসে হামলার মুখে পড়েছিলেন বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা। জেড প্লাস ক্যাটাগরি থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন বিজেপির সভাপতি। তবে ডায়মন্ডহারবারে সভা করতে যাওয়ার সময় তৃণমূলের ছোড়া ইঁট ও কাঁচের টুকরোয় দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের মত নেতারা আহত হয়েছিলেন বলে গেরুয়া শিবিরের তরফে দাবি করা হয়। তখন রাজ্য ছাড়ার আগে নাড্ডা সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, সাংসদ-বিধায়কদের মত জনপ্রিতিনিধিরাই যখন এরাজ্যে সুরক্ষিত নান, তখন আম জনতার অবস্থা কী রকম, তা সহজেই অনুমেয়।
এদিন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, একটি সংগঠন তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছে এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগাযোগই নেই।