বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা কনভয়ে হামলা নিয়ে এখন সরগরম বাংলার রাজনীতি। সেই আঁচ লেগেছে রাজধানী দিল্লিতেও। ঘটনার ব্যাখা চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব-ডিজিপিকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও সেই তলব এড়াতে পাল্টা কৌশল নিয়েছে রাজ্য প্রশাসনও। বঙ্গ রাজনীতি যখন তোলপাড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভূমিকা নিয়ে। বিজেপির নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল সরকারকে নিশানা করতে শুরু করেছে অন্যান্য বিরোধী শিবির। তখন সহিষ্ণুতরা পাল্টা চাল দিলেন এরাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
বৃহস্পতিবার তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ডহারবার যাওয়ার পথে আক্রান্ত হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভ। জেপি নাড্ডা নিজে জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়ায় তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের হাত থেকে বেঁচে যায়। সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে তাই প্রাণে বাঁচার জন্য মা দর্গাকে স্মরণ করেছিলেন নাড্ডা। কিন্তু ইটবৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাননি কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ-সহ গেরুয়া শিবিরের অন্যান্য নেতারা। সেদিনের হামলায় কৈলাসের হাতের লিগামেন্ট ছিঁড়েছে বলে দাবি করা হয়। হাতে চোট পান মুকুল রায়ও। তৃণমূলনেত্রীকে বার্তা দিতে এরপর রাজ্য সফরে আসার কথা জানান স্বয়ং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তৃণমূলের হামলার প্রতিবাদে পাল্টা হুঙ্কার শোনা যেতে থাকে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সায়ন্তন বসুদের গলায়। তবে হুমকি নয় কৈলাস হাঁটলেন অন্যপথে। এদিনে কৈলাস ট্যুইট করে লেখেন, "বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতাদের উপরে ইট বর্ষণ করছেন। দলের জাতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা উপরেও হামলার চক্রান্ত হয়েছিল ! তবে, বিজেপির নিজস্ব নীতি আছে, আমরা আমাদের সহিষ্ণুতা ছাড়ি না। আমরা ফুল দিয়ে ইটের উত্তর দেব। আমাদের 'পদ্ম' রাজ্যকে নতুন পরিচয় দেবে।"
এক গালে চড় মারলে আরেক গাল এগিয়ে সহিষ্ণুতার উপদেশ দিয়েছিলেন জাতীর জনক মহাত্মা গান্ধী। বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে গান্ধীর সেই বাণী এখন আর কোনও রাজনৈতিক দলই অনুসরণ করে না। বরং একে অপরের বিরুদ্ধে আকচাআকচিতেই ব্যস্ত সব শিবির। কৈলাস নিজেও নাড্ডার কনভয়ে হামলার পর মমতা প্রশাসনের দিকে আক্রমণ শানিয়েছেন। এর আগে রাজ্যের আইন-শৃ্ঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নিশানা করেছেন তৃণমূল সরকারকে। এবর ইটবৃষ্টির পাল্টা চাল হিসাবেই সহিষ্ণুতার প্রশ্নে মমতাকে বিঁধতে চাইছে গেরুয়া নেতৃত্ব। গত বুধবার হেস্টিংসে দলের নির্বাচনী দফতরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নাড্ডা কটাক্ষ করেছিলেন ‘মমতার দ্বিতীয় নামই অসহিষ্ণুতা।’
রাজ্য এসে বাংলায় হিংসার পরিবেশ নিয়ে সরব হয়েছিলেন নাড্ডা। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সহিষ্ণুতার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল নেত্রীকে নিশানা করে বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে রজনৈতিক আদানপ্রদান স্বাস্থ্যকর। কিন্তু এখন এ রাজ্যে এসব আর হয় না। কারণ মুখ্যমন্ত্রী। মমতার আর এক নাম অসহিষ্ণুতা। তাই রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে অসহিষ্ণুতা বেড়েই চলেছে।’ তারপর দিনই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে হামলা। ইটের ঘায়ে আহত একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মী। যার রেশ পড়েছে রাজ্য ছাড়িয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেও। আর সেই অসহিষ্ণুতার প্রশ্নেই এবার বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সরকারকে উৎখাত করার ডাক দিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়।