
এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। আর সেই তালিকা খতিয়ে দেখতেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের সংখ্যা একেবারে শূন্য।
জানা গিয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫। এরপর প্রায় দু’মাস সময় রেখে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশ করা হয় চূড়ান্ত তালিকা। এই সময়ের মধ্যে প্রথমবার ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ‘ফর্ম-৬’ পূরণ করে আবেদন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই সুযোগ কার্যত কেউই নেননি।
জেলার বাদুরিয়া, হাবড়া, নৈহাটি, নোয়াপাড়া, দমদম এবং বসিরহাট উত্তর, এই ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে নতুন ভোটারের আবেদন সংখ্যা শূন্য। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওই কেন্দ্রগুলিতে একজনও নতুন ভোটার হিসাবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদন করেননি। যদিও এখনও ফর্ম-৬ জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, জেলার গাইঘাটা বিধানসভা কেন্দ্রেও নতুন ভোটারের সংখ্যা কার্যত নেই বললেই চলে, সেখানে মাত্র একজন নতুন ভোটার নাম নথিভুক্ত করেছেন। তবে একই জেলার অন্য কিছু কেন্দ্রে চিত্র একেবারেই আলাদা। নতুন ভোটারের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্র, যেখানে ৩,৩৯৮ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছেন। তার পরেই রয়েছে রাজারহাট, নিউটাউন। যেখানে নতুন ভোটারের সংখ্যা ২,৫৪৩।
একই জেলার মধ্যে কোথাও নতুন ভোটারের আবেদন শূন্য, আবার কোথাও কয়েক হাজার, এই বৈপরীত্য স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সাধারণত নতুন ভোটারদের বড় অংশই তরুণ প্রজন্মের। সেই প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে নতুন ভোটারের আবেদন না থাকা কি প্রশাসনিক বা প্রক্রিয়াগত সমস্যার ফল, নাকি সচেতনতার অভাব, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার নাগরিক অংশগ্রহণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেখানে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ কম হলে তা উদ্বেগের কারণ। যদিও নতুন ভোটার হওয়ার বিষয়ে এলাকায় প্রচার চালানো হয়েছিল, তবু কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।