Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: জনগণের তাড়া খেয়ে পালালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী? না, ভাইরাল ভিডিওর নেপথ্য কাহিনি অন্য

আজ তক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে করা দাবি ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সময় জনগণকে তাড়া করতে বা কোনও বিক্ষোভ দেখাতে লক্ষ্য করা যায়নি।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 07 Apr 2026,
  • अपडेटेड 4:42 PM IST

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি চলতি মাসেই অসম, কেরল, তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও এ বারের নির্বাচনের অন্যতম বড় মুখ। আর সেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি ভিডিও সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে, জনগণের তাড়া খেয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পালাচ্ছেন।

এই ভিডিওতে নিরাপত্তারক্ষীদের দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে হিমন্তকে দ্রুতগতিতে ছুটে এগোতে দেখা যাচ্ছে। অদূরেই একটি হেলিকপ্টার রাখা দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “জনতার তাড়া খেয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা পালাচ্ছে কেনো.... ???? চেয়ারের ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী জনগণের রায়ের কাছে।”

একই ভিডিও শেয়ার করে কেউ কেউ লিখেছেন, “জনতার তাড়া খেয়ে আসামের মুখ্যমন্ত্রী মামা পালাচ্ছে।”

আজ তক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে করা দাবি ভিত্তিহীন। এই ঘটনার সময় জনগণকে তাড়া করতে বা কোনও বিক্ষোভ দেখাতে লক্ষ্য করা যায়নি।

সত্য উদঘাটন

বিধানসভা নির্বাচনের যদি সত্যিই হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ক্ষুব্ধ জনগণ তাড়া করে থাকতো, তবে সেই সংক্রান্ত খবর কোনও না কোনও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হতো। কিন্তু এমন কোনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি যেখানে উল্লেখ করা হয় যে অসমের মুখ্যমন্ত্রীকে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে তা খুঁজে দেখা হলে ওই একই ভিডিও Sangbad Lahar নামে একটি অসমীয়া ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। ভিডিওটি ৪ এপ্রিল পোস্ট করা হয়েছিল। এর অসমীয়া ক্যাপশন বাংলায় অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে ঔদ্ধত্য, জাতীয় সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রশ্ন পাওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী কি বিবিসি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে পালিয়ে যাচ্ছেন?”

Advertisement

প্রসঙ্গত, এই উক্ত ভাইরাল ভিডিওতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে এক বিবিসির সাংবাদিককেও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তাই এই সূত্র ধরে আসল ঘটনা জানার জন্য আমরা বিবিসির চ্যানেলে এই ঘটনা সম্পর্কে কিওয়ার্ড সার্চ করি। তখন বিবিসি হিন্দির ইউটিউব চ্যানেলে ২ এপ্রিল আপলোড করা একটি ভিডিও দেখা যায়। এই ভিডিওতে সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার একটি একান্ত সাক্ষাৎকারের আবেদন করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। যে কারণে অসমের দুলিয়াজানে একটি জনসভার মাঝে বিবিসির প্রতিনিধিরা গিয়ে পৌঁছান এবং হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখানে তাদের পক্ষ থেকে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে কথোপকথনের অসম্পাদিত সংস্করণ তুলে ধরা হয়েছে। এই ভিডিওতে বিবিসির সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, স্যার, আমরা অনেকদিন ধরে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, আমরা কি কিছু প্রশ্ন করতে পারি? জবাবে হিমন্ত বলেন, একা বা দুটো প্রশ্ন। তখন সাংবাদিক জানতে চান, “প্রথমত, আপনি কি মনে করেন যে আপনার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন এবং এর আগেও, গত ৫ বছরে, আপনি কি অসমের সকল অংশের মানুষের সঙ্গে ন্যায্য আচরণ করেছেন?” জবাবে হিমন্ত বলেন, “হিন্দু, মুসলিম বা খ্রিস্টান, সকল শ্রেণীর মানুষই খুব খুশি সবাই উদযাপন করছে। আমরা অসমকে একত্রিত করেছি।”

এরপর সাংবাদিক জানতে চান যে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরোধী শিবিরে থাকা যে ব্যক্তিরা তাঁকে অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিস্ট, সাম্প্রদায়িক, হিটলার বলেন, তাঁদের তিনি কী বলতে চান? জবাবে হিমন্ত বলেন, বিবিসির যুক্তরাজ্যে ভোট (ব্যাঙ্ক) রয়েছে, বিবিসি আমায় হিটলার বলে, অসমের মানুষ আমায় মামা বলেন।

এরপর বিবিসির সাংবাদিক বলেন, অখিল গগৈ আপনাকে এগুলো বলেছেন, তাই প্রশ্ন করছি, আপনি কী ভাবে আপনার সমালোচকদের জবাব দেবেন? এর উত্তরে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, আমার মনে হয় অখিল গগৈ-এর হয়ে বিবিসির প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়। এই বলে হিমন্ত হেঁটে বেরিয়ে যান।

এর পরের অংশে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে অপেক্ষারত জনগণের সঙ্গে দেখা করে করমর্দন করতে দেখা যায়। জনগণ তাঁকে মামা-মামা সম্বোধন করতে থাকেন এবং হিমন্ত এগিয়ে যান। ভিড়ের মধ্যেই কিছুক্ষণ জনগণের সঙ্গে সাক্ষাতের পর বিবিসির সাংবাদিক আরেকবার জানতে চান, “যারা আপনাকে ভয় পান তাদের প্রতি কী বার্তা দিতে চান?” উত্তরে হিমন্ত একাধিকবার বলেন, "বিবিসিকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।" এই বলে তিনি ছুটে জনগণের সঙ্গে দেখা করতে চলে যান।

ভাইরাল ভিডিও, এবং বিবিসির এই ভিডিও দেখলে পরিষ্কার হয়ে যায়, উভয় ঘটনা একই স্থানের, একই সময়ের। তবে বিবিসির অসম্পাদিত ভিডিওতে কোথাও জনগণের ক্ষোভ বা জনগণের দ্বারা তাড়া খেতে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রচারপর্বে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে এভাবে দৌড়ে-দৌড়ে অপেক্ষারত জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা গিয়েছে। গত ৩ এপ্রিল এই ধরনের একটি ভিডিও তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লেখেন, “আমার আপনজনদের সাথে দেখা করতে কখনো দেরি করা যাবে না।”

অর্থাৎ, হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে জনগণ তাড়া করার দাবিতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি যে ভিত্তিহীন, তা বুঝতে বাকি থাকে না।

Fact Check

Claim

জনগণের তাড়া খেয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পালাচ্ছেন।

Conclusion

ভিডিওটি নির্বাচনী প্রচারের সময় দুলিয়াজানে ধারণ করা, যেখানে হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে দ্রুত এগোতে দেখা যাচ্ছিল জনগণের সঙ্গে দেখা করার জন্য। মানুষের তাড়া বা ক্ষোভের কোনও প্রমাণ বা খবর এ ক্ষেত্রে নেই।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement