Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: গ্রেফতারের পর ছবি তুলে দীপু দাস হত্যার মাস্টারমাইন্ড ইয়াসিনকে ছেড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ?

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পরে ছেড়ে দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন আজতককে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, “ইয়াসিনকে ছাড়া হয়নি, বরং তিনি বর্তমানে জেলেই রয়েছেন।”

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 12 Jan 2026,
  • अपडेटेड 3:43 PM IST

সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামক এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা এবং তার দেহ পুড়িয়ে দেয় মৌলবাদীরা। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি ছবি। যেখানে হাতে হাতকড়া পরিহিত অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তোলার জন্য পোজ দিতে দেখা যাচ্ছে।

ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশ পুলিশ দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পর তার সঙ্গে একটি ছবি তুলে তাকে ছেড়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ছবিটি শেয়ার করে সেটির উপরে লিখেছেন, “ধরা পড়ার কিছু পরেই মুক্ত দীপুর খু'নি! পুলিশের সাথে ছবি তুলে চা খেয়ে বাড়ি ফেরেন ধৃত।” (সব বানান অপরিবর্তিত) 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পরে ছেড়ে দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন আজতককে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, “ইয়াসিনকে ছাড়া হয়নি, বরং তিনি বর্তমানে জেলেই রয়েছেন।”

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ছবি এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারে এই একই ছবি-সহ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত বুধবার বিকালে ঢাকার ডেমরা থানার সারুলিয়া এলাকা থেকে দীপু দাসের খুনের অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রকারী ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযুক্ত ইয়াসিন ভালুকা উপজেলার দক্ষিণ হবিরবাড়ী কড়ইতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা। দীপু হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত যুবক ঠাকার সারুলিয়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় আত্মগোপন করেছিল।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশের গয়েন্দা শাখার ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে তোলা অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতের অন্য একটি ছবি-সহ প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীপুর হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো ঘটনার নেতৃত্ব দেয় ইয়াসিন। সেই দীপুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে সেখানে উপস্থিত মবকে দীপুকে হত্যার জন্য ইসকানি প্রদান করে। পাশাপাশি এই ইয়াসিনই দীপুকে টেনে বাইরে নিয়ে যায় বলে জানা গিয়েছে। ইয়াসিন-সহ এই ঘটনায় জড়িত মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পর পুলিশের তরফে তাকে ছেড়া দেওয়া হয়েছে সংক্রান্ত কোনও প্রতিবেদন বা তথ্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement

তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আজতক ফ্যাক্ট চেকের তরফে ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, “দীপু চন্দ্র হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পরে ছেড়ে দেওয়ার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন। গ্রেফতারের পর ইয়াসিন নিজেই এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন। অফিশিয়াল রেকোর্ডের কারণেই ঢাকায় ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতার করার পর উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা তার সঙ্গে ছবিটি তুলেছিল। পরবর্তীতে তাকে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আনা হয় এবং এরপর তাকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তার জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।”

এর থেকে প্রমাণ হয় যে বাংলাদেশ দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পর ছেড়ে দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়।

Fact Check

Claim

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ পুলিশ দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পর তার সঙ্গে একটি ছবি তুলে তাকে ছেড়ে দিয়েছে।

Conclusion

দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ইয়াসিন আরাফাতকে গ্রেফতারের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন যে, ইয়াসিন বর্তমানে জেলেই রয়েছেন।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement