
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক যুবক এবং হিজাব পরিহিতা এক যুবতীর একটি ছবির কোলাজ বেশ ভাইরাল হয়েছে। ছবিটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকায় এক মুসলিম কিশোরী নৃশংসভাবে খুন করেছে এই হিন্দু যুবক।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার বনশ্রীতে হিন্দু ছেলে মিলন মল্লিকের প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় মুসলিম কিশোরী লিলি আক্তার যে নৃশংস হ৩্যাকান্ডের স্বীকার হয়…।” পাশাপাশি, ভাইরাল পোস্টে মেয়েটির ছবির উপরে লেখা হয়েছে, “নিহত মুসলিম মেয়ে লিলি আক্তার।” অন্যদিকে ছেলেটির ছবির উপরে লেখা হয়েছে, “খু_নি হিন্দু যুবক মিলন মল্লিক>”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ঢাকার বনশ্রী এলাকায় ফাতেমা আক্তার লিলি নামক এক স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে খুন করা হয়। তবে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই খুনের অভিযুক্ত যুবক হিন্দু নয়, বরং মুসলিম এবং তার নাম মহম্মদ মিলন মল্লিক।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল দাবির সত্যতা জানতে বিষয়টি নিয়ে গুগলে একাধিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে ভাইরাল যুবক এবং তরুণীর ছবি-সহ একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি বিকালে ঢাকার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার এল ব্লকের ‘প্রীতম ভিলা’ নামক একটি বাড়ি থেকে ফাতেমা আক্তার লিলি নামক এক দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর গলা কাটা মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তদন্তে নেমে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাংলাদেশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব মহম্মদ মিলন মল্লিক এক যুবককে এই খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করে।
প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মহম্মদ মিলন মল্লিক বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার মান্দা বাঁশখালী এলাকার বাসিন্দা সেকেন্দার মল্লিকের ছেলে এবং পেশায় একজন হোটেল কর্মী। সে ঢাকায় মৃত তরুণীর বাবা মহম্মদ সজীবের হোটেলের কাজ করত। পূর্ব পরিচয়ের কারণে অভিযুক্ত মিলন দীর্ঘদিন ধরে লিলিকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু লিলি অভিযুক্তের সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে উল্টে তাকে ভর্ৎসনা করে। এতে মিলন ক্ষুদ্ধ হয়ে গত ১০ জানুয়ারি বিকালে পরিবারের সকলের অবর্তমানে লিলিদের বাড়িতে প্রবেশ করে ধারাল অস্ত্র দিয়ে লিলির গলা কেটে তাকে খুন করে এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে গত ১২ জানুয়ারি বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে র্যাব।
পাশাপাশি, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম কালবেলা নিউজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই বিষয়ে র্যাবের তরফে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলন পাওয়া যায়। সেখানে র্যাব-৩-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়েজুল আরেফিনও এই একই তথ্য প্রদান করে জানান, “অভিযুক্ত যুবকের নাম মহম্মদ মিলন মল্লিক এবং সে ফাতেমা আক্তার নিলিকে খুন করার কথা স্বীকার করেছে।” বাংলাদেশের সরকারি সংবাদ সংস্থা বিএসএস নিউজের তরফেও এই একই তথ্য প্রদান করা হয়েছে।
এখানে উল্লেখ্য, ‘মিলন’ নাম এবং ‘মল্লিক’ পদবী দুটি হিন্দু এবং মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের তরফে ব্যবহার করা হয়। তবে এক্ষেত্রে পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত যুবকের নাম ‘মহম্মদ’ মিলন মল্লিক। আর নামের সঙ্গে ‘মহম্মদ’ কেবলমাত্র মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাই ব্যবহার করে থাকেন। অন্যদিকে অভিযুক্তের বাবার নাম ‘সেকেন্দার মল্লিক’, যা একটি মুসলিমদের ব্যবহৃত নাম।
সব মিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, ঢাকার বনশ্রী এলাকায় দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফাতেমা আক্তার নিলির খুনের ঘটনার অভিযুক্ত যুবক হিন্দু নয়, বরং মুসলিম।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বনশ্রী এলাকায় এক মুসলিম কিশোরী নৃশংসভাবে খুন করেছে এই হিন্দু যুবক।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই খুনের অভিযুক্ত যুবক হিন্দু নয়, বরং মুসলিম এবং তার নাম মহম্মদ মিলন মল্লিক।