Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: মহিলাদের কাপড় বদলানোর স্থানে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে গণধোলাই খেলেন সাধুরা?

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে দাবিটি বিভ্রান্তিকর। এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে ঘটনা ঘটনা যখন ওই সাধুদের শিশু অপহরণকারী ভেবে মারধর করা হয়েছিল।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 06 Aug 2025,
  • अपडेटेड 9:51 AM IST

সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি জনাকয়েক সাধুর বেশে থাকা ব্যক্তিদের মারধরের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে মহিলাদের পোশাক বদলানোর জায়গায় গোপন ক্যামেরা লাগানোর কারণে ধরা পড়ার পর তাদের মারধর করা হয়েছে।

ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "গাজীয়াবাদের মুরাদ নগরে মন্দিরের বাইরে মহিলাদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য একটি রুম ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ রেখেছিলো। আশ্চর্যের বিষয় ঐ রুমে CCTV লাগানো পাওয়া গেছে, যার ডাইরেক্ট লাইভ মন্দিরের পূজারী ও মোহন্তদের মোবাইল ফোনে পাওয়া গিয়েছে। মহিলাদের FIR-এর ভিত্তিতে পুলিশি তদন্তে নামে, এবং মোহন্তরা ধরা পড়ে। তারপর যারা ধরা পড়েছে এই হাল, মূল অভিযুক্ত এখনো ফেরার।"

আজতক ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে দাবিটি বিভ্রান্তিকর। এটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে ঘটনা ঘটনা যখন ওই সাধুদের শিশু অপহরণকারী ভেবে মারধর করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে

রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্যে ভাইরাল ভিডিওটি পরীক্ষা করে দেখা যায় যে, ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাস থেকে এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হচ্ছে। বিজেপি নেতা অমিত মালভিয়া নিজের X হ্যান্ডেলে একই ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তিনি লেখেন যে এই ভিডিও পশ্চিমবঙ্গে সাধুদের মারধরের একটি দৃশ্য। ১৩ জানুয়ারী, ২০২৪-এ শেয়ার করা এই এক্স পোস্টের একটি স্ক্রিনশট নীচে দেখা যাবে।

এরপর কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একাধিক রিপোর্টে সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে সাধুদের বিরুদ্ধে মারধরের রিপোর্ট পাওয়া যায়। ইন্ডিয়া টুডের রিপোর্ট অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারী উত্তর প্রদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার সময়কে পুরুলিয়া জেলায় তিন সাধুকে একদল জনতা মারধর করে। ১৩ জানুয়ারী প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়ে যে পুলিশ এই ঘটনায় বারোজনকে গ্রেফতার করেছে। 

ইন্ডিয়া ডটকমের একটি খবরেও একই তথ্য প্রকাশ করে জানানো হয় যে বাংলার পুরুলিয়া জেলায় স্থানীয়রা সাধুদের অপহরণকারী সন্দেহে মারধর করেছে । এই প্রতিবেদনে ভাইরাল ভিডিওটির একটি স্ক্রিনশটও ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনের একটি স্ক্রিনশট নীচে দেখা যাবে ।

Advertisement

২০২৪ সালের ১৩ জানুয়ারী টাইমস নাও-এর ইউটিউব পেজে একটি ভিডিও প্রতিবেদনও শেয়ার করা হয়েছিল, যার মধ্যে ভাইরাল ভিডিওটির ফুটেজও ছিল। এই ভিডিওটি নীচে দেখা যাবে।

তবে উত্তর প্রদেশে এই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেছে কিনা জানতে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে গাজিয়াবাদ জেলার মুরাদনগরে অবস্থিত গঙ্গা কানাল মন্দিরেও একই রকম ঘটনা ঘটার উল্লেখ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ২৬ মে, আজ তক রিপোর্ট করেছে যে গঙ্গা খালের উপর নির্মিত ঘাটের কাছে মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য সংরক্ষিত একটি ঘরে ক্যামেরা লাগানোর জন্য মহন্ত মুকেশ গিরির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। খবরে বলা হয় যে অভিযুক্ত গোপনে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন এবং সরাসরি তার মোবাইল ফোনে সংযুক্ত করে ভিডিওগুলি লাইভ দেখতেন। তবে, এই ঘটনাটি ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, অসম্পর্কিত একটি ভিডিওকে উত্তর প্রদেশের এমন একটি ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেখানো হয়েছে যা বিভ্রান্তিকর।

Fact Check

Claim

উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে মহিলাদের কাপড় বদলানোর জায়গায় গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে গণপিটুনি খেলেন সাধুরা। 

Conclusion

এই ভিডিওতে গোপন ক্যামেরা থাকার জন্য মারধর করা হয়নি। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিশু অপহরণকারী সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ায় তাদের আক্রমণ করা হয়েছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement