Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: মিথ্যে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়াল মধ্যপ্রদেশে চিকিৎসক নিগ্রহের ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র চিকিৎসক মুসলিম নয়, বরং হিন্দু এবং তাঁর নাম ডাঃ এস.বি খারে বা সরকার বাহাদুর খারে। পাশাপাশি, মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার জন্য নয়, বরং সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছিল।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 29 Jan 2026,
  • अपडेटेड 11:10 AM IST

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বেশ কয়েকজন যুবককে এক ব্যক্তির মাথায় এবং গায়ে কালো রঙের কোনও তরল পদার্থ ঢালতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি, ওই যুবকদেরকে ‘জয় ভবানী, জয় শিবাজী’ স্লোগান দিতেও শোনা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, রোগী দেখার অজুহাতে মধ্যপ্রদেশে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় এক মুসলিম ডাক্তারকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “মুসলিম ডক্টর হিন্দু মহিলা পেশেন্টের সাথে অশালীন আচরণ করতো। হিন্দু জাগরণ মঞ্চ জানতে পেরে সোচ্চার হয়েছে। (মধ্যপ্রদেশ)” (সব বানান অপরিবর্তিত)

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র ডাক্তার মুসলিম নয়, বরং হিন্দু এবং তাঁর নাম ডাঃ এস.বি খারে বা সরকার বাহাদুর খারে। পাশাপাশি, মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার জন্য নয়, বরং সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, সেটি মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার ঘটনা এবং ভিডিওতে যে ব্যক্তিকে নিগ্রহ করা হয়েছে তিনি সিধি জেলা হাসপাতালের সিভিল সার্জেন ডাক্তার এস.বি খারে। মূলত, জেলা হাসপাতালে একজন শিবসেনা সমর্থকের মৃত্যুর পর শিবসেনার (শিন্দে গোষ্ঠী) রাজ্য সহ-সভাপতি বিবেক পান্ডের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক ৬৪ বছর বয়সী সিভিল সার্জেন ডাঃ খারের উপরে হামলা চালায় এবং তাঁকে নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ।

এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও এবং সেটির স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলার জামোদি থানা এলাকায় সিধি সরকারি হাসপাতালের সিভিল সার্জেন ডাক্তার এস.বি খারের মাথায় এবং গায়ে কালো রঙের তরল পদার্থ ঢেলে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ডিউটির সময় সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগ তুলে তাঁকে এই নিগ্রহ করা হয় বলে জানা যায়। শিবসেনা (শিন্দে গোষ্ঠী) নেতা বিবেক পান্ডের নেতৃত্বে শিবসেনা এবং অন্যান্য ডানপন্থী সংগঠনের সদস্যদের তরফে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বিবেক পান্ডে-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে কোনও প্রতিবেদনেই ডাঃ খারের বিরুদ্ধে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করা সংক্রান্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement

তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমরা জামোদি থানার এসএইচও দিব্য প্রকাশ ত্রিপাঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান, “ভাইরাল ভিডিও-র পিছনে কোনও সাম্প্রদায়িক রং নেই। ডাক্তার এস.বি খারে সিধি সরকারি হাসপাতালের একজন সিনিয়র সিভিল সার্জেন। এবং তাঁকে মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার জন্য নয় বরং ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগে নিগ্রহ করা হয়েছিল।” পাশাপাশি, ডাঃ এস.বি খারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনিও এই একই তথ্য-সহ জানান, “আমার পুরো নাম সরকার বাহাদুর খারে। আমি মুসলিম নই, বরং হিন্দু ধর্মের মানুষ।”

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, মিথ্যে সাম্প্রদায়িক দাবিতে ছড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশে ডাক্তার নিগ্রহের ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রোগী দেখার অজুহাতে মধ্যপ্রদেশে হিন্দু মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করায় এক মুসলিম ডাক্তারকে উচিত শিক্ষা দিয়েছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিও-র ডাক্তার মুসলিম নয়, বরং হিন্দু। পাশাপাশি, মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার জন্য নয়, বরং সরকারি হাসপাতালের পরিবর্তে নিজের ব্যক্তিগত ক্লিনিকে রোগী দেখার অভিযোগে তাঁকে নিগ্রহ করা হয়েছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement