Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: বিহারে হিন্দুদের মুসলিম সাজিয়ে দলীয় সভায় বসিয়েছে BJP? না, ভিডিওটি ঝাড়খণ্ডের

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি বিহারের নয় । বরং এটি ২০২৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে তোলা হয়েছিল।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 29 Aug 2025,
  • अपडेटेड 4:16 PM IST

সামনেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনকে সামনে ইতিমধ্যে রেখে রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে ভোটমুখী বিহারে প্রচার শুরু করে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলিও। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রতিবেদন বেশ ভাইরাল হয়েছে। 

যেখানে মাথায় ফেজ টুপি পরিহিত কিছু ব্যক্তিকে বিজেপির একটি সভায় অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে ভিডিওতে এক বিজেপি নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আজ বহু সংখ্যক মুসলিম ভাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।” ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিহারে বিজেপির প্রতি মুসলিমদের সমর্থন দেখানোর জন্য দলের নেতারা হিন্দুদের মুসলিম সাজিয়ে দলীয় সভায় নিয়ে এসেছে।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “বিজেপি যে গরু পেছনে বের হ‌ওয়া দল ,দেখুন  ভিডিও। বিহারে Bjp মুসলিম ভোট পেতে,হিন্দুদের মুসলিম টুপি পরিয়ে Bjp সভাতে হাজির করল। Bjp বুজে গেছে এইবার মুসলিম ভোট তাদের কপালে নেই। তাই জনগণ কে বিভ্রান্ত করার জন‍্য এই নাটক মঞ্চস্ত করল ভোট চুর Bjp।” (সব বানান অপরিবর্তিত)

আরও পড়ুন

ইন্ডিয়া টুডে ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি বিহারের নয় । বরং এটি ২০২৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে তোলা হয়েছিল।

সত্য উন্মোচন হলো যেভাবে

প্রথম, ভাইরাল ভিডিওটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করার সময় আমরা লক্ষ্য করি, এর ৪ সেকেন্ডে যে বিজেপি নেতা মুসলিমদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা বলছেন তাঁকে রাঁচির বিজেপি বিধায়ক সিপি সিং বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে রাঁচি হলো ঝাড়খণ্ডের রাজধানী। তাই এর থেকে সন্দেহ তৈরি হয় যে ভিডিওটি বিহারে না হয়ে ঝাড়খণ্ডের হলেও হতে পারে। 

এরপর ভাইরাল দাবি ও ভিডিওর সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ২০২৪ সালের ৮ মে ঝাড়খণ্ড যুব কংগ্রেসের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে সেটিকে ঝাড়খণ্ডের রাঁচির ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি লেখা হয়েছে, “ভোটের জন্য হিন্দুদের মুসলিম সাজানো হয়েছে। রাঁচির বিজেপি বিধায়ক সিপি সিং দাবি করছেন, বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। অথচ একজন সাংবাদিক যখন টুপি পরা ওই সব ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রশ্ন করেন, তখন তারা জানিয়েছেন, তাদের কারোর জাত মাহতো, কেউ ওরাওঁ আবার কেউ সাহু। এই লোকেরা আর কত নীচে নামবে?” 

Advertisement

পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ড যুব কংগ্রেসের এক্স হ্যান্ডেলে পাওয়া ভিডিওতে আমরা ‘N4News Bharat’ নামক একটি সংবাদমাধ্যমের লোগো এবং বুম দেখতে পাই। যা থেকে অনুমান করা যায় যে এই ভিডিও প্রতিবেদনটি ওই সংবাদমাধ্যমের তরফে প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর এই সংক্রান্ত কিওয়ার্ড সার্চ করলে ২০২৪ সালের ৭ মে ‘N4News Bharat’এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এবং ইউটিউব চ্যানেলে মূল প্রতিবেদনটি পাওয়া যায়। 

সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “লোকসভা নির্বাচনে রাঁচি লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় শেঠের সমর্থনে রাঁচিতে দলের বিধায়ক সিপি সিংয়ের নেতৃত্বে একটি সংখ্যালঘু মিলন সম্মেলেনর আয়োজন করা হয়। সেই সম্মেলনে কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিকে মাথায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ফেজ টুপি পরিয়ে বসানো হয়। এবং বিধায়ক সিপি সিংয়ের তরফে দাবি করা হয়, বহু সংখ্যক মুসলিম ভাই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।” সেই সময় অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও এই একই তথ্য-সহ এই ঘটনা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিহারে হিন্দুদের মুসলিম সাজিয়ে দলীয় সভায় বসিয়েছে বিজেপি দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে ঝাড়খণ্ডের পুরনো ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বিহারে বিজেপির প্রতি মুসলিমদের সমর্থন দেখানোর জন্য দলের নেতারা হিন্দুদের মুসলিম সাজিয়ে দলীয় সভায় নিয়ে এসেছে।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি বিহারের নয় । বরং এটি ২০২৪ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচন চলাকালীন ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে তোলা হয়েছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement