Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: ঝাড়খণ্ডের মন্দিরে বলি দেওয়ার জন্য মুসলিম শিশুকে অপহরণ হিন্দুত্ববাদীদের?

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ঝাড়খণ্ডের নয়, বরং সেটি মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলার সানাওয়াদের ঘটনা। পাশাপাশি, বড়ওয়াহর এসডিপিও অর্চনা রাওয়াত অজতক ফ্যাক্ট চেককে নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিও-র বাচ্চা ছেলেটি মুসলিম নয়, বরং হিন্দু এবং এই ঘটনার কোনও সাম্প্রদায়িক রং নেই।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 19 Jan 2026,
  • अपडेटेड 3:33 PM IST

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে একটি বাচ্চা ছেলেকে ঘিরে ধরে তার সঙ্গে কথা বলতে এবং তাকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দিতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিও-তে এক মহিলা পুলিশ কর্মীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “এখন তুমি তো বাড়ি চলে এসোছো, তাই না। এই তো তোমার কাকা।” এরপরেই এক ব্যক্তিকে বাচ্চাটিকে জড়িয়ে ধরে কোলে তুলে নিতে দেখা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তরফে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি মন্দিরে বলি দেওয়ার সময় পুলিশি অভিযানে উদ্ধার ৬ বছরের এক মুসলিম শিশু।

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “মুসলিম এই বাচ্চাটিকে উগ্র হিন্দুরা কালী মন্দিরে বলি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতির সময় পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে। ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের ঝারখন্ড রাজ্যের।।” এই একই ভিডিও শেয়ার করে অপর একজন লিখেছেন, “ভা*রতে মুসলিম ৬বছরের শিশু কে অপ*হরণ করে মন্দিরে বলি দেওয়ার সময় উ*দ্ধার তখন এক আবেগঘন মুহূর্তে পুলিশ অফিসাররাও কাঁদতে শুরু করেন।” (সব বানান অপরিবর্তিত) 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ঝাড়খণ্ডের নয়, বরং সেটি মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলার সানাওয়াদের ঘটনা। পাশাপাশি, বড়ওয়াহর এসডিপিও অর্চনা রাওয়াত অজতক ফ্যাক্ট চেককে নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিও-র বাচ্চা ছেলেটি মুসলিম নয়, বরং হিন্দু এবং এই ঘটনার কোনও সাম্প্রদায়িক রং নেই।

সত্য উন্মোচন

আরও পড়ুন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি ‘Republic Bharat’এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে এই একই ভিডিওর-র একটি বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়। সেই ভিডিও-র শিরোনাম এবং বিস্তারিত অংশে উল্লেখ করা হয়েছে, “মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলায় ৬ বছর বয়সী এক ছেলেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মূলত, গুপ্তধন পাওয়ার আশায় বলি দেওয়ার জন্য ২২ দিন আগে বাচ্চাটিকে অপহরণ করেছিল এক তান্ত্রিক।”

Advertisement

এরপর উক্ত সূত্র ধরে এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে দৈনিক ভাষ্কর-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও অথবা এর স্ক্রিনশট-সহ একাধিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে ১০ ডিসেম্বর মধ্য প্রদেশের খারগোন জেলার সানাওয়াদ শহরের খাঙ্গওয়ারা এলাকা থেকে ৬ বছর বয়সী এক বাচ্চা ছেলে অপহরণ করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার তদন্তে নেমে বাদওয়ার এসডিপিও অর্চনা রাওয়াতের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম অপহরণের ২২ দিনের মাথায় বাচ্চাটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়। মূলত জাদুবিদ্যার সাহায্যে মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা গুপ্তধন পাওয়ার আশায় বলি দেওয়ার জন্য বাচ্চাটিকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক তান্ত্রিক-সহ মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

তবে কোনও প্রতিবেদনেই অপহৃত বাচ্চা বা তার পরিবারের সদস্যদের নাম কিংবা ধর্মীয় পরিচয় জানা যায়নি। তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে জানতে আমরা বাদওয়ার এসডিপিও অর্চনা রাওয়াতের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের জানান, “ভাইরাল ভিডিও-র বাচ্চা ছেলেটি মুসলিম নয়, বরং হিন্দু। তার বাবার নাম ভগবান খেড়ারে এবং তারা আদিবাসী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। এই ঘটনার কোনও সাম্প্রদায়িক দিক নেই।” তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য আমাদের তরফে প্রতিবেদনে বাচ্চাটির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, মধ্যপ্রদেশে অপহৃত শিশু উদ্ধারের ভিডিওকে মিথ্যে সাম্প্রদায়িকতার রং দিয়ে শেয়ার করা হচ্ছে।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের তরফে ভারতের ঝাড়খণ্ডের একটি মন্দিরে বলি দেওয়ার সময় পুলিশি অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ৬ বছরের এক মুসলিম শিশু।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি ঝাড়খণ্ডের নয়, বরং সেটি মধ্যপ্রদেশের খরগোন জেলার ঘটনা। পাশাপাশি, বড়ওয়াহর এসডিপিও অর্চনা রাওয়াত অজতক ফ্যাক্ট চেককে নিশ্চিত করেছেন যে, বাচ্চা ছেলেটি মুসলিম নয়, বরং হিন্দু।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement