
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিক্ষোভের ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কোনও একটি বাজারে বেশকিছু যুবককে একাধিক দোকান ভাঙচুর চালাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, অসমে মুসলিমদের দোকানে ভাংচুর করছে উগ্রবাদী হিন্দুরা।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “ভারতের আসামে মুসলমানদের দোকানপাট ভাংচুর করছে উগ্রবাদী হিন্দুরা।” (সব বানান অপরিবর্তিত)
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরনি বাজারে অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের ভিক্ষোভের দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ছবি এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর The Light News 24x7 নামক একটি অসমীয়া সংবাদমাধ্যমের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। সেই পোস্টের ভিডিওটিকে খেরনির ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে দ্য হিন্দু-সহ একাধিক জাতীয় এবং অসমীয়া সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আদিবাসীদের তরফে অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলায় সরকারের তরফে সংরক্ষিত গ্রামীণ চারণ সংরক্ষণ (ভিজিআর) এবং পেশাদার চারণ সংরক্ষণ (পিজিআর) জমি থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদের দাবিতে আদিবাসীদের তরফে বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়। এই বিক্ষোভের কারণে ৪৫ জন আক্রান্ত এবং সুরেশ দে ও আথিক তিমুং নামক দু’জনের মৃত্যু হয়।
আদিবাসী কার্বি সম্প্রদায়ের মানুষদের মূলত অভিযোগ, বিহার এবং অন্যান্য রাজ্য থেকে তাদের এলাকায় আসা কিছু মানুষ সরকারের তরফে তাদের জন্য সংরক্ষিত ভিজিআর এবং পিজিআর জমি দখল করে সেখানে বসতি এবং দোকান তৈরি করেছে। সেই জমি খালি করার দাবিতেই এই বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়। বিক্ষভকারীরা স্থানীয় খেরনি বাজারের একাধিক দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। পাশাপাশি, গুগল ম্যাপে অনুসন্ধান চালালে সেখানে প্রাপ্ত অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরনি বাজারের ছবির সঙ্গে ভাইরাল ভিডিও-র ফ্রেমের হুবহু মিল পাওয়া যায়। নীচে গুগল ম্যাপে ঘটনাস্থলটি দেখা যাবে।
তবে অনুসন্ধানে এই ঘটনার সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিবাদ কিংবা হিন্দুদের তরফে মুসলিমদের দোকানে ভাংচুর চালানো সংক্রান্ত কোনও তথ্য বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই এরপর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আমরা পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার পুলিশ সুপার বোলিন দেউরির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “এটি হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিবাদের কোনও বিক্ষোভ নয়। এমনকি ওই এলাকাতে মুসলিমদের বসতি প্রায় নেই বললেই চলে। মূলত সংরক্ষিত জমি থেকে অবৈধ বসতি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে এই বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছিল। এখানে যাকা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে তারা হলেন স্থানীয় আদিবাসী হিন্দু এবং যাদের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়েছে তারা বিহার-সহ অন্য রাজ্য থেকে খেরনিতে আসা হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।”
এর থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সাম্প্রদায়িক বিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, অসমে মুসলিমদের দোকানে ভাংচুর করছে উগ্রবাদী হিন্দুরা।
ভিডিওটির সঙ্গে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিবাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এটি গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর অসমের পশ্চিম কার্বি আংলং জেলার খেরনি বাজারে অবৈধ দখল উচ্ছেদের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষদের ভিক্ষোভের দৃশ্য।