
২০২৪ সালে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ থেকে পালানোর পর সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপরে একাধিক হামলার ঘটনা সামনে আসে। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচারের একটি বড়ো অংশে জুড়ে উঠে আসছে ওপার বাংলার সংখ্যালঘুদের অত্যাচারের কথা। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও। যেখানে রাস্তায় ফেলে এক ব্যক্তিতে বেধড়ক মারধর করছেন অপর এক ব্যক্তি।
ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কেবলমাত্র ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে নিজের পৈতৃক বাড়ি-ঘর ছেড়ে দেশ থেকে চলে যেতে বলছে মৌলবাদী মুসলিমরা। কিন্তু ওই ব্যক্তি রাজি না হওয়ায় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “শুধুমাত্র তার অপরাধ সে একজন সনাতন আর বাস করে বাংলাদেশে। বাড়ি ঘর ছেড়ে পালানোর জন্য কি পরিমানে জোর জবরদস্তি করছে। যদি এই পরিস্থিতি তুমিও দেখতে না চাও তাহলে পশ্চিমবাংলায় ভেবেচিন্তে ভোট টা দিও।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিও-র ব্যক্তি হিন্দু নয়, বরং মুসলিম এবং তার নাম মহম্মদ মিন্টু। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বানারীপাড়া পৌরসভা এলাকায় মাদক দ্রব্য বিক্রির অভিযোগে তাকে মারধর করেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল দাবি এবং ভিডিও-র সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশি Risingbd.com নামক একটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও-র একটি বর্ধিত সংস্করণ পাওয়া যায়। ভিডিওতে প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা যায়, সেটি বাংলাদেশের বরিশালে মাদক বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মারধরের দৃশ্য।
উক্ত সূত্র ধরে এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ভাইরাল ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিও-র নির্যাতিত ব্যক্তির নাম মহম্মদ মিন্টু। তিনি বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বানারীপাড়া পৌরসভার রাজ্জাকপুর এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মাইকের (ডেকোরেটার্স) ব্যবসায়ী। তবে তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকদ্রব্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল বানারীপাড়া পৌরসভার টিএনটি মোড় সংলগ্ন এলাকায় তাকে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা রিয়াজ মৃধা।
এখানে উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ২৪৪২টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে এমনই একটি রিপোর্টে দাবি করেছে ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ নামক একটি সংগঠন। তবে ভাইরাল ভিডিও-র সঙ্গে ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হামলার কোনও সম্পর্ক নেই।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, মিথ্যে সাম্প্রদায়িকতার রং লাগিয়ে ছড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশে মুসলিম মাদক ব্যবসায়ীকে মারধরের ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কেবলমাত্র ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশে একজন হিন্দু ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেছে মুসলিম মৌলবাদীরা।
ভাইরাল ভিডিও-র ব্যক্তি হিন্দু নয়, বরং মুসলিম এবং তার নাম মহম্মদ মিন্টু। ২০২৬ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের বরিশালে মাদক দ্রব্য বিক্রির অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়।