
রাজ্যে বেজে গিয়েছে বিধানসভা ভোটের দামামা। ইতিমধ্যেই প্রার্থী তালিকার একটা বড় অংশ ঘোষণা করে দিয়েছে শাসক-বিরোধী সব শিবির। জোরকদমে শুরু হয়েছে প্রচারও। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে কোনও একটি স্থানে একটি মসজিদের ভিতরে আগুন জ্বলতে এবং ভাঙচুর হতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, বিজেপি শাসিত বিহারে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ইদের নামাজ পড়া বন্ধ করতে মজসিদে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
পাশাপাশি, আরও উল্লেখ করা হয়েছে আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসলে এ রাজ্যের মুসলিমদেরও এই একই পরিণিতি হবে। উদাহরণস্বরূপ, ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ডবল ঈঞ্জিন সরকরের বিহারে ইদের নামাজ বন্ধ করে দিয়েছে. মস//জিদদে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা। ২০২৬ এ পশ্চিমবঙ্গে BJP ক্ষমতায় আসলে এই একই কাজ করবে এখানে...।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি বিহারের নয়, এমনকি ভারতেরও নয়। বরং সেটি নেপালের রাউতাহাট জেলার গৌড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দুত্ববাদীদের তরফে দুটি মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগেরর দৃশ্য।
সত্য উন্মোচন
প্রথমত, ভাইরাল ভিডিওটি সন্দেহজনক। কারণ সম্প্রতি বিহারে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ইদের নামাজ পড়া বন্ধ করার লক্ষ্যে কোনও মজসিদে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে সেই সংক্রান্ত খবর অবশ্যই প্রথম শ্রেণির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হবে। কিন্তু আমরা আমাদের অনুসন্ধানে এমন কোনও নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রতিবেদন খুঁজে পাইনি যা থেকে এর সত্যতা প্রমাণ হয়।
এরপর ভাইরাল দাবি ও ভিডিও-র সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কি-ফ্রেম নিয়ে সেগুলি গুগুল লেন্সে অনুসন্ধান চালালে ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তুরস্কের সরকারি সংবাদমাধ্য়ম TRT World-এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। প্রতিটি সংবাদমাধ্যমে ক্লিপটি শেয়ার করে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নেপালের রাউতাহাটে হিন্দুত্ববাদীদের তরফে দুটি মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগেরর দৃশ্য।
এরপর এই সংক্রান্ত পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নেপাল ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Nepalkhabar-এ এই সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নেপালের রাউতাহাট জেলার গৌড় পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সবগধায়ে একটি মসজিদের পাশ দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিয়ের শোভাযাত্রা যাচ্ছিল। সেই শোভাযাত্রা থেকে গান বাজানো হলে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা আপত্তি জানায়। তা না শোনা হলে, উভয়পক্ষের সদস্যরা একে অপরের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এই ঘটনার প্রতিবাদে পরবর্তীতে স্থানীয়দের তরফে একাধিক ধর্মীয়স্থানে ভাঙচুর চালানো হয়। এই দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে জনমত পার্টির নেতা শেখ জামশেদ এবং গৌড় ৬ নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান অবধ বিহারী তেলি-সহ মোট ২৩ জনকে আটক করে পুলিশ।
এর থেকে প্রমাণ হয় যে, বিহারের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো হচ্ছে নেপালের মসজিদে ভাঙচুর ও অগ্নি-সংযোগের ভিডিও।
ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি শাসিত বিহারে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ইদের নামাজ পড়া বন্ধ করতে মজসিদে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা।
ভাইরাল ভিডিওটি বিহারের নয়, এমনকি ভারতেরও নয়। বরং সেটি নেপালের রাউতাহাট জেলায় হিন্দুত্ববাদীদের তরফে দুটি মসজিদে হামলা ও অগ্নিসংযোগেরর দৃশ্য।