Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রপতি মাদুরোর মূর্তি ভাঙচুরের দৃশ্য দাবিতে ছড়াল পুরনো অসম্পর্কিত ভিডিও

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওতে জনগণের তরফে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর মূর্তি ভাঙা হয়নি। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের তরফে মাদুরোর পূর্বসূরী এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথা ভেনিজুয়েলার প্রায়ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উগো চাভেসের একটি মূর্তি ভাঙচুরের দৃশ্য।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 06 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:14 PM IST

শনিবার গভীর রাতে ভেনেজুয়েলায় অভিযান চালায় আমেরিকা। রাজধানী কারাকাসে নিজের প্রাসাদের শোয়ার ঘর থেকে দেশটির রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে মার্কিন সেনারা। মাদক পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের জন্য তেল ব্যবহার করার অভিযোগে ট্রাম্পের নির্দেশে মাদুরোকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় আমেরিকায়। আর এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে কোনও একটি স্থানে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা হাতে বেশকিছু যুবক-যুবতীকে একটি সেনার পোশাক (ইউনিফর্ম) পরিহিত এক ব্যক্তির একটি মূর্তি ভাঙতে দেখা যাচ্ছে। 

ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, মার্কিন সেনার হাতে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার খুশিতে তাঁর মূর্তি ভেঙে ফেলছে ভেনেজুয়েলার জনগণ। উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “নিকো'লাস মা'দুরোর কর্তৃত্ব পতনের পর ভেনি'জুয়েলায় বিভিন্ন স্থানে মূ'র্তি ভা'ঙচুর শুরু হয়েছে। নিকো'লাস মা'দুরোর কর্তৃত্ব পতনের পর ভেনিজু'য়েলাজুড়ে অস্থি'র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন শহরে সাবেক সরকারের প্রতীক হিসেবে পরিচিত একাধিক মূ'র্তি ও ভা'স্কর্য ভা'ঙচুরের খবর পাওয়া গেছে। #ভেনিজুয়েলা #venezuela #Maduro #স্ট্যাচু” (সব বানান অপরিবর্তিত) 

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওতে জনগণের তরফে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর মূর্তি ভাঙা হয়নি। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের তরফে মাদুরোর পূর্বসূরী এবং তাঁর রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথা ভেনিজুয়েলার প্রায়ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উগো চাভেসের একটি মূর্তি ভাঙচুরের দৃশ্য।

আরও পড়ুন

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই একটি এক্স হ্যান্ডেলে এই একই ভিডিও-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভেনিজুয়েলার গুয়ারিকোর কালাবোজোয় উগো চাভেসর একটি মূর্তি ভেঙে ফেলে বিক্ষুদ্ধ জনতা। মূলত রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে আয়োজিত বিক্ষোভের সময় উগো চাভেসের মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়।

Advertisement

এরপর উক্ত সূত্র ধরে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে, ভাইরাল ভিডিও-র স্ক্রিনশট-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বারের জন্য রাষ্ট্রপতি হন নিকোলাস মাদুরো। আর এই জয়ের পরেই মাদুরোর বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে তুলে রাজধানী কারাকাস-সহ গোটা দেশ জুড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করে মাদুরো বিরোধী ভেনিজুয়েলার নাগরিকরা। 

এই বিক্ষোভের সময় রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর পূর্বসূরী এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা উগো চাভেসের মূর্তি ভেঙে ফেলে উত্তেজিত জনতা। দ্য গার্ডিয়ানের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুয়ারিকোর কালাবোজো-সহ গোটা ভেনিজুয়েলা জুড়ে চাভেসের প্রায় সাতটি মূর্তি ভেঙে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এমনকি, চাভেসের কিছু মূর্তির শিরচ্ছেদও করা হয়। তবে এরপর আমরা সম্প্রতি মার্কিন সেনার হাতে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার পর ভেনিজুয়েলার কোথাও তাঁর মূর্তি ভাঙা হয়েছে কিনা সেই সংক্রান্ত অনুসন্ধান চালাই। তবে সেই অনুসন্ধানে এমন কোনও তথ্য বা প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি যা থেকে এর সত্যতা প্রমাণ হয়।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে, ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর মূর্তি ভাঙচুরের দৃশ্য দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে প্রক্তন উগো চাভেসের মূর্তি ভাঙার ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন সেনার হাতে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো গ্রেফতার হওয়ার খুশিতে তাঁর মূর্তি ভেঙে ফেলছে ভেনেজুয়েলার জনগণ।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওতে জনগণের তরফে রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর মূর্তি ভাঙা হয়নি। বরং সেটি ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই ভেনিজুয়েলার নাগরিকদের তরফে মাদুরোর পূর্বসূরী এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা তথা ভেনিজুয়েলার প্রায়ত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি উগো চাভেসের একটি মূর্তি ভাঙচুরের দৃশ্য।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement