
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পুলিশি অভিযানের একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে বেশকিছু মহিলাকে নিজেদের মুখ ঢাকা অবস্থায় কোনও একটি গোপন বেসমেন্ট থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বেসমেন্টের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকজন পুলিশ কর্মী। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, হিন্দু রক্ষা কেন্দ্রের আড়ালে এক বিজেপি সাংসদ মধুচক্রের আসর পেতে বসেছিল। পুলিশি অভিযানে প্রকাশ্যে এসেছে সেই গোপন ডেরা।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “বিজেপি সাংসদের গোপন ডেরা—নামেঃ হিন্দু রক্ষা কেন্দ্র,কাজেঃ --হোটেল +খননক্ষেত্র + মধুচক্র! প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ঢুকতেই ধনসম্পদের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে এল ‘নৈতিকতা-বিরোধী’ সব নিদর্শন—মেয়ে মানুষ উদ্ধার, মুখে তালা! দেশ বাঁচানোর স্লোগান সামনে, আর পিছনেগোপন ডেরায় সর্বনাশের আস্তানা! ” (সব বানান অপরিবর্তিত)
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ভিডিওটি ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে মুম্বই পুলিশের তরফে আন্ধেরির দীপা বারের গোপন কক্ষ থেকে ১৭ জন মহিলাকে উদ্ধারের দৃশ্য। পাশাপাশি, এই বারের মালিক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের তরফে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক কিফ্রেম সংগ্রহ করে সেগুলি গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এই একই ভিডিও-সহ মারাঠি সংবাদমাধ্যম Vadalwara Live-এ একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুম্বই পুলিশ আন্ধেরির দীপা ড্যান্স বারে অভিযান চালিয়ে একটি বেসমেন্টে লুকিয়ে থাকা ১৭ জন নৃত্যশিল্পীকে (বার ড্যান্সার) আটক করেছে। একটি এনজিওর সহায়তায় মুম্বই পুলিশের সোশ্যাল সার্ভিস বিভাগ এই অভিযান পরিচালনা করেছিল।
এরপর উক্ত তথ্যের উপরে ভিত্তি করে পরবর্তী অনুসন্ধান চালালে এনডিটিভি-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে এই সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেই সব প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে আন্ধেরির দীপা বারে অভিযান চালায় মুম্বই পুলিশের সমাজসেবা শাখা। কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় বারের একটি গোপন কক্ষে ১৭ জন মহিলা লুকিয়ে থাকতে দেখে হতবাক হয়ে যান পুলিশ কর্তারা।
গোপন কক্ষটিতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং বায়ুচলাচলের ব্যবস্থা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সেখানে খাবার, জল এবং ঠান্ডা পানীয়ও মজুদ ছিল। পুলিশ বারের কর্মী এবং ম্যানেজার-সহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল। তবে কোনও বিজেপি সাংসদ এই বারের মালিক হলে প্রতিবেদনে অবশ্যই উল্লেখ করা হতো। কিন্তু কোনও প্রতিবেদনেই এই বারের মালিক কোনও বিজেপি সাংসদ বলে উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি কোনও বিজেপি নেতার সঙ্গে এই বারের সম্পর্ক রয়েছে কিনা সেই সংক্রান্ত তথ্যও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পাশাপাশি উল্লেখ্য, কয়েক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই একই ভিডিও শেয়ার করে বারটিকে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনা(ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরের ছেলের মালিকানাধীন বলে দাবি করা হয়েছিল। সেই সময় ইন্ডিয়া টুডের তরফে ভিডিওটির ফ্যাক্ট চেক করা হয়েছিল। তখন ইন্ডিয়া টুডের তরফে মুম্বই পুলিশের সোশ্যাল সার্ভিস বিভাগের ডিসিপি রাজু ভুজবলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, যিনি অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “অভিযানটি ১৫ ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে এবং আমরা বারের ম্যানেজারকেও গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু উদ্ধব ঠাকরের ছেলের বারটির মালিকানার দাবি সত্য নয়।"
সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, বিজেপি সাংসদের নাম জড়িয়ে ফের একবার প্রায় ৪ বছরের পুরনো ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোদ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
হিন্দু রক্ষা কেন্দ্রের আড়ালে এক বিজেপি সাংসদ মধুচক্রের আসর পেতে বসেছিল। পুলিশি অভিযানে প্রকাশ্যে এসেছে সেই গোপন ডেরা।
ভিডিওটি ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগে মুম্বই পুলিশের তরফে আন্ধেরির দীপা বারের গোপন কক্ষ থেকে ১৭ জন মহিলাকে উদ্ধারের দৃশ্য। পাশাপাশি, এই বারের মালিক এবং তার রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের তরফে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।