Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: মুসলিম হওয়ার কারণে শিশু বিক্রেতার বেলুন ফাটায়নি হিন্দুত্ববাদীরা, স্ক্রিপ্টেড ভিডিওটি বাংলাদেশের

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ক্লিপটির সঙ্গে কলকাতা বা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি ঢাকার আগারগাঁও এলাকার ঘটনা। পাশাপাশি, এটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।

সুরাজউদ্দিন মণ্ডল
  • কলকাতা,
  • 28 Jan 2026,
  • अपडेटेड 12:44 PM IST

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে মাথায় ফেজ টুপি পরিহিত বেলুন বিক্রেতা এক বাচ্চা ছেলের সব বেলুন ছুঁচ দিয়ে ফাটিয়ে দিতে দেখা যাচ্ছে এক যুবককে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কেবলমাত্র মুসলিম হওয়ার কারণে কলকাতায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী এক যুবক বেলুন বিক্রেতা এক বাচ্চা ছেলের সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে। 

উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “উগ্রহিন্দু তার সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে, কারণ শিশুটি মুসলিম। কলকাতার ঘটনা। এদের ঘৃণার লেভেল আসমান ছাড়িয়ে গেছে।” (সব বানান অপরিবর্তিত)

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, ভাইরাল ক্লিপটির সঙ্গে কলকাতা বা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি ঢাকার আগারগাঁও এলাকার ঘটনা। পাশাপাশি, এটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।

আরও পড়ুন

সত্য উন্মোচন

ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি ‘The Dhaka-রাজু ভাই’ নামক বাংলাদেশ ভিত্তিক এক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের ফেসবুক পেজে এই একই ভিডিও-র সবথেকে পুরনো এবং বর্ধিত সংস্করণ-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। “এক দিনের জন্য ব্যবসা বন্ধ🫢কিন্তু কেনো..??” শিরোনামের সেই ভিডিও-র শেষের দিকে যে যুবক বাচ্চা ছেলেটির সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছিলেন তাকে বেলুনের দাম হিসাবে ছেলেটিকে এক হাজার টাকা দিতে দেখা যায়।
 

অন্যদিকে, ভিডিও-র কমেন্ট সেকশনে অন্যান্য ফেসবুক ব্যবহারকারীদের করা প্রশ্নের উত্তরে ‘The Dhaka-রাজু ভাই’ পেজটির তরফে সেটিকে স্ক্রিপ্টেড বা সাজানো ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এবং লেখা হয়েছে, “বাচ্চাটা আগে থেকে সব কিছু জানতো।” পাশাপাশি, ‘The Dhaka-রাজু ভাই’ নামক ফেসবুক পেজটি ভালো করে পর্যবেক্ষণ করলে সেখানে ভাইরাল ভিডিও-র ছেলেটির সঙ্গে ওই একই যুবকর আরও একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। সেই সব ভিডিও থেকে জানা যায়, ভাইরাল ভিডিও-র বাচ্চা ছেলেটির নাম আরমান এবং তাকে আগে থেকে বিষয়টি সম্পর্কে সবকিছু জানিয়ে তার বেলুনগুলি ফাটানো হয়েছিল। এমনকি আরমান নিজের মুখেই সেই কথা জানিয়েছে

Advertisement

এরপর বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমরা, ‘The Dhaka-রাজু ভাই’ নামক ফেসবুক পেজটির অ্যাডমিন মহম্মদ রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদের নিশ্চিত করেন যে ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড। পাশাপাশি তিনি জানান, “ভাইরাল ভিডিও-র বেলুন বিক্রেতা ছেলেটির নাম আরমান। আমি দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করি আসছিলাম সে ঢাকার আগারগাঁও এলাকায় বেলুন বিক্রি করে। তাই একদিন আমি তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। তবে অনেকেই যেহেতু সরাসরি সাহয্য নিতে চায় না। তাই আমি ভিডিওটি ধারণ করার আগে তার সঙ্গে পুরো বিষয়টি নিয়ে কথা বলি এবং সে রাজি হলে তার অনুমতি নিয়েই আমি তার বেলুন গুলি ফাটিয়ে সেটির ভিডিও তৈরি করি।”

রাজু আরও জানান, “পরবর্তীতে বেলুন ফাটানো হয়ে গেলে সব বেলুনের দাম হিসাবে আমি তাকে ১০০০ বাংলাদেশি টাকা দিয়েছিলাম। এই ভিডিও তৈরি এবং তাকে সাহয্য করার পিছনের মূল কারণ ছিল, আরমান যাতে একদিনের জন্য বেলুন বিক্রির কাজ থেকে বিরতি নিয়ে সেই সময় খেলতে, পড়াশোনা করতে বা যা তার পছন্দ সেই কাজে ব্যবহার করতে পারে। এই ভিডিওটি স্ক্রিপ্টেড এবং আরমানের অনুমতি নিয়েই তৈরি করা হয়েছে।” পাশাপাশি, মহম্মদ রাজুর দেওয়া তথ্য এবং ভাইরাল ভিডিও-র পিছনে থাকা ‘ইন্ডিয়ান পানিপুরী’ নামক একটি ফুচকা স্টলকে সূত্র হিসাবে ব্যবহার করে আমরা  গুগল ম্যাপে ঢাকার আইসিটি রোডে এই ঘটনাস্থলটি খুঁজে বের করি। নীচে গুগল ম্যপে ঘটনাস্থলটি দেখা যাবে।

এর থেকে প্রমাণ হয় যে কলকাতার রাস্তায় বেলুন বিক্রেতা মুসলিম বাচ্চা ছেলের সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে হিন্দুত্ববাদীরা দাবিতে ছড়াল বাংলাদেশের ভিডিও।

Fact Check

Claim

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম হওয়ার কারণে কলকাতায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী এক যুবক বেলুন বিক্রেতা এক বাচ্চা ছেলের সব বেলুন ফাটিয়ে দিয়েছে।

Conclusion

ভাইরাল ক্লিপটির সঙ্গে কলকাতা বা ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই, বরং এটি ঢাকার আগারগাঁও এলাকার ঘটনা। পাশাপাশি, এটি একটি সাজানো বা স্ক্রিপ্টেড ভিডিও।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement