
চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি কেরলের বাসিন্দা শিমজিথা মুস্তাফা নামক এক মহিলা চলন্ত বাসে ভ্রমণের সময় ৪২ বছর বয়সী ইউ দীপক নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তোলেন। পাশাপশি, সেই ঘটনার একটি ভিডিও বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। পরবর্তীতে ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়লে, গত ১৮ জানুয়ারি মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যা করেন ওই ব্যক্তি। এরপর আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গত ২১ জানুয়ারি শিমজিথাকে গ্রেফতার করে কোঝিকোড মেডিক্যাল কলেজ পুলিশ।
এই সার্বিক পরিস্থিতির মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে একজন তরুণীকে এসকর্ট করে পুলিশ ভ্যানে বসাতে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, সেটি চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা কেরালার মহিলা শিমজিথা মুস্তাফাকে অভিযুক্ত ইউ দীপকের আত্মহত্যার পর গ্রেফতারের দৃশ্য।
উদাহরণস্বরূপ, এক ফেসবুক ব্যবহারকারী ভাইরাল ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, “অবশেষে গ্রেপ্তার! কেরালার নিরীহ বাসযাত্রী দীপককে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে #শিমজিথা_মুস্তাফা গ্রেপ্তার। KSRTC-তে রিল বানিয়ে লাইক-কমেন্টের নেশায় এক হিন্দু মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ—তিনি AIML সদস্য। দুবাই পালানোর ছক ছিল। মুখে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই…।” (সব বানান অপরিবর্তিত)
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, যদিও এটা ঠিক যে ইউ দীপককে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে শিমজিথা মুস্তফাকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে কেরল পুলিশ। তবে ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের এবং এর সঙ্গে শিমজিথা বা দীপকের কোনও সম্পর্ক নেই।
সত্য উন্মোচন
ভাইরাল ভিডিও এবং দাবির সত্যতা জানতে সেটি থেকে একাধিক স্ক্রিনশট নিয়ে গুগলে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। তখন ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি এই একই ভিডিও একই দাবি-সহ একটি এক্স হ্যান্ডেলে পাওয়া যায়। তবে সেই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে অনেকে ওই ভিডিওতে গ্রেফতার হওয়া মহিলা শিমজিথা মুস্তফা নন বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ভিডিওটি পর্যবেক্ষণের সময় পুলিশের গাড়ির কাঁচে ‘আঁচল পিএস’ লেখা দেখা যায়। এই সংক্রান্ত কীওয়ার্ড সার্চ করলে জানা যায়, সেটি কেরলের কোল্লাম জেলায় অবস্থিত আঁচল পুলিশ স্টেশনের গাড়ি বা পুলিশ ভ্যান।
পরবর্তীতে নিউজ করালামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটিতে ভালো করে অনুসন্ধান চালালে ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর সেখানে এই একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে মালায়ালাম ভাষার উল্লেখ করা হয়েছে: "অশ্বতী, যিনি তার স্বামীর আত্মহত্যার দিন নিজের সন্তানকে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তিনি একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আঁচল পুলিশের সামনে হাজির হন। পুলিশ থানার ভিতরে তার বাবা-মায়ের তরফে অশ্বতীকে আক্রমণ করার প্রচেষ্টা প্রতিহত করে।"
২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর নিউজ কেরালামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে এই একই মামলার সংক্রান্ত অন্য একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিও-র ক্যাপশন থেকে জানা যায়, “নিজের স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘন্টা পরে সন্তানকে রেখে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে আঁচল পুলিশ অশ্বতী নামক এক মহিলা এবং তার প্রেমিক নিথিনকে গ্রেফতার করেছে।” অন্যদিকে, অনুসন্ধানে আমরা শিমজিথাকে গ্রেফতারের আসল দৃশ্য খুঁজে পাই এবং সেটি এখানে দেখা যাবে।
সংতরাং, এর থেকে স্পষ্ট হয় যে শিমজিথা মুস্তফার গ্রেফতারের দৃশ্য দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে একটি পুরনো অসম্পর্কিত ভিডিও।
ভিডিওতে চলন্ত বাসে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলা কেরলের মহিলাকে অভিযুক্তের আত্মহত্যার পর গ্রেফতারের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
ভাইরাল ভিডিওটি ২০২৩ সালের এবং এর সঙ্গে শিমজিথা বা দীপকের কোনও সম্পর্ক নেই।