Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: আজান দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের আগুন নেভানোর চেষ্টা? না, ভিডিওটি পুরনো ও পাকিস্তানের 

আজ তাক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভাইরাল ভিডিওটি বেশ পুরনো এবং পাকিস্তানের। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে আগুনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 14 Jan 2025,
  • अपडेटेड 2:50 PM IST

আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসের জঙ্গলে লাগা আগুন একের পর এক এলাকাকে নিজের গ্রাসে নিয়ে নিয়েছে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই অগ্নিকাণ্ডে হাজার হাজার একর জমি ও কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সম্পত্তি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং এ পর্যন্ত ২৫ জন প্রাণ হারিয়েছে।

এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে আগুন নেভানোর আর কোনও উপায় খুঁজে না পেয়ে মুসলিম হুজুরদের দিয়ে আজান দেওয়ানো হচ্ছে যাতে আগুন নিভে যায়। অনেকেই একই ধরনের দাবিতে এই ভিডিও শেয়ার করেছেন। 

এই ধরনের ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "আমেরি*কার লজ এঞ্জে*লস শহরে আ*গুন নিভাতে যখন সকল প্রযুক্তি ব্যর্থ! তখনই হুজুরদের দিয়ে আযানের মাধ্যমে আল্লাহর গজব থেকে বাঁচার জন্য মিনতি করছে। ইসলাম সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম আল্লাহ সর্ব শক্তিমান এটা বিধর্মীরাও মানতে বাধ্য হলো!" (ক্যাপশনের বানান অপরিবর্তিত)

আজ তাক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভাইরাল ভিডিওটি বেশ পুরনো এবং পাকিস্তানের। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে আগুনের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই।

কীভাবে জানা গেল সত্যি

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে কিফ্রেম সংগ্রহ করে তার রিভার্স সার্চ করার পর আমরা দেখতে পাই ওই একই ভিডিও ২০২২ সালের ৩ জুন এক এক্স ব্যবহারকারী নিজের হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছিলেন। যা থেকে আপাতভাবে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়ে যায় যে ২০২২ সালের এই ভিডিওর সঙ্গে বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসে লাগা আগুনের কোনও সম্পর্ক নেই। 

উক্ত এক্স পোস্টে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভিডিওটি করাচির জেল চৌরঙ্গী এলাকার কাছে একটি সুপার মার্কেটের। তিনি ক্যাপশনে লেখেন, "করাচিতে গতকাল জেল চৌরঙ্গীর কাছে একটি সুপার মার্কেটে আগুন লাগে। দলগতভাবে আজান দিয়ে আগুন নেভানোর জন্য একটি পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু তা কাজে আসেনি।"

Advertisement

এরপর এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করে আমরা একটি পাকিস্তানি ওয়েবসাইটে এই ঘটনা সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট ও ওই একই ভিডিও দেখতে পাই। তার পাশপাশি ২০২২ সালের ৫৬ জুন প্রকাশ পাওয়া টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি খবরেও বলা হয় যে করাচির সুপারমার্কেটে লাগা আগুন থামাতে আজান দেওয়ার এই প্রচেষ্টার ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। 

প্রকৃতপক্ষে, ২০২২ সালের ১ জুন করাচির জেল চৌরঙ্গি এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ভিতরে অবস্থিত একটি সুপারমার্কেটে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। পরবর্তী সময়ে ৩ জুন পাকিস্তানি সংবাদপত্র ডনের প্রতিবেদনে লেখা হয়, এই ঘটনায় একজন প্রাণ হারিয়েছেন। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, চেজ ডিপার্টমেন্টাল সুপার স্টোরের গুদামে আগুন লাগে সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ।

ফলে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে ২০২২ সালে পাকিস্তানের করাচি শহরে একটি সুপার মার্কেটে লাগা আগুন নেভাতে চেয়ে আজান দেওয়ার ভিডিও বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাবি করে শেয়ার করা হচ্ছে। 

 

Fact Check

Claim

লস অ্যাঞ্জেলেসে আগুন নেভানোর সকল প্রযুক্তি ব্যর্থ হওয়ায় আজানের মাধ্যমে বাঁচার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Conclusion

ভাইরাল ভিডিওটি ২০২২ সালের জুন মাসের এবং পাকিস্তানের করাচি শহরে একটি সুপারমার্কেটে আগুন লাগার পরবর্তী ঘটনা। 

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement