Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: কর্নাটকে জাকিয়া হত্যা মামলায় হিন্দুদের দ্বারা গণধর্ষণ করে খুনের দাবিটি ভুয়ো ও ভিত্তিহীন

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল দাবিটি অসত্য। জাকিয়া খুনের অভিযোগে সাবির মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই যুবকের সঙ্গেই জাকিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 23 Jan 2026,
  • अपडेटेड 4:19 PM IST

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট বেশ ভাইরাল হয়েছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, কর্নাটকে জাকিয়া নামে এক মুসলিম মহিলাকে হিন্দুত্ববাদীদের দ্বারা গণধর্ষণ করে খুন করেছে।

এই পোস্টে এক মহিলার ছবি শেয়ার করা হয়েছে। সঙ্গে লেখা হয়েছে যে, বছর ২০-র জাকিয়া ফার্মাসি বিভাগের কর্মী ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির জন্য চেষ্টা করছিল তার বৃদ্ধ বাবাকে সহায়তা করার জন্য। কিন্তু জাকিয়ার সেই স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেছে হিন্দুত্ববাদীদের কারণে। জাকিয়াকে গণধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। এবং তাঁর দেহ একটি মন্দিরের পাশে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল দাবিটি অসত্য। জাকিয়া খুনের অভিযোগে সাবির মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই যুবকের সঙ্গেই জাকিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।

আরও পড়ুন

সত্য উদঘাটন

সবার প্রথম পোস্টে থাকা ছবিটি গুগল লেন্সের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই ছবি এশিয়ানেট কন্নড়-সহ আরেকটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত এই দুই সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কর্নাটকের ধারওয়াদে এই ঘটনাটি ঘটে। ১৯ বছর বয়সী প্যারামেডিক্যাল ছাত্রী জাকিয়া মোল্লা গত মঙ্গলবার, অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি ল্যাবে যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বেরোয়। কিন্তু আর ফিরে আসে না।

এরপর জাকিয়ার পরিবারের লোকজন তাঁর সন্ধান শুরু করলে ২১ জানুয়ারি ধাওয়াদের মনসুর রোডে, স্থানীয় বিধায়ক বিনয় কুলকর্নির ডেয়ারি ফার্মের কাছে জাকিয়ার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর ধারওয়াদ জেলা পুলিশ এবং বিদ্যাগিরি পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। উল্লেখ্য, এই প্রাথমিক রিপোর্টগুলোর একটিতেও লেখা হয়নি যে জাকিয়াকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল বা তাঁর দেহ কোনও মন্দিরের পাশে উদ্ধার হয়।

এই বিষয়ে আরও সার্চ করা হলে ২২ ও ২৩ জানুয়ারি প্রকাশিত দ্য হিন্দু টাইমস অব ইন্ডিয়ার একাধিক রিপোর্ট পাওয়া যায়। রিপোর্টগুলো থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার সমাধান করে পুলিশ। তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয় সাবির মোল্লা নামে এক যুবককে। জাকিয়াকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগে সাবিরকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Advertisement

হত্যার অভিযোগে সাবিরকে গ্রেফতার করার পর ধারওয়াদের পুলিশ সুপার গুঞ্জন আর্য জানান যে, অভিযুক্ত সাবির জাকিয়ার সঙ্গেই প্যারামেডিক্যালের পড়াশোনা করতো। জাকিয়ার পোশাকের ওড়না ব্যবহার করেই সাবির তার শ্বাসরোধ করে খুন করে, এই অভিযোগে সাবিরকে গ্রেফতার করা হয়। সাবির এবং জাকিয়া তিন বছর ধরে পূর্ব পরিচিত ছিল বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়।

সেই সঙ্গে জানানো হয় যে, সাবির এবং জাকিয়ার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এমনকি, দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ে নিয়েও কথা অনেকদূর পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত কোনও কারণে জাকিয়া ও সাবিরের মধ্যে মতপার্থক্য হয়। এরপর গত মঙ্গলবার সাবির একটি গাড়িতে করে জাকিয়া নিয়ে যায়। সেখানেই শ্বাসরোধ করে খুন করে এবং প্রমাণ লোপাট করতে মৃতদেহ অন্যত্র ফেলে আসে। বর্তমানে সাবিরকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ সবমিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যায় যে জাকিয়ার হত্যা মামলার ঘটনাকে সাম্প্রদায়িকভাবে বিভ্রান্তিকর দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়।

Fact Check

Claim

কর্নাটকে জাকিয়া নামে এক মুসলিম তরুণীকে হিন্দুত্ববাদীরা গণধর্ষণ করে খুন করেছে এবং তাঁর দেহ একটি মন্দিরের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে।

Conclusion

জাকিয়া হত্যার অভিযোগে সাবির মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি জাকিয়ার পরিচিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, শ্বাসরোধ করে জাকিয়াকে খুন করা হয়েছে। মন্দিরের পাশে দেহ উদ্ধারের বা গণধর্ষণের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement