Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: কলকাতায় নমাজ পড়তে গিয়ে বাংলাদেশি ব্যক্তিকে হত্যার দাবিটি পুরোপুরি ভুয়ো ও মনগড়া

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল পোস্টের দাবিটি পুরোপুরি ভুয়ো। কলকাতায় বা ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে কোনও বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করার কোনও ঘটনা ঘটেনি। সেই সঙ্গে পোস্টে থাকা ছবি দুটি ২০২৫ সালের দুটি পৃথক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 10 Jan 2026,
  • अपडेटेड 2:01 PM IST

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিরাজমান উত্তেজনার মাঝে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এই পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে, এই বাংলাদেশি দম্পতি ভারতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু স্বামী যখন নমাজ পড়তে মসজিদে যান তখন নাকি উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা তাঁকে আক্রমণ করে মারধর করে এবং হত্যা করে।

এই পোস্টের দাবির সমর্থনে দুটি পৃথক ছবিও সঙ্গে শেয়ার করা হয়েছে। প্রথম ছবিটি কোনও একটি ভিড়ের যেখানে মানুষজনকে জটলা করে থাকতে দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় ছবিতে বাঁ-দিকে এক মুসলিম মহিলাকে সংবাদ মাধ্যমের মাইকের সামনে দেখা যাচ্ছে, ও ডান-দিকে এক ব্যক্তির ছবি রয়েছে।

এই ছবি দুটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশী স্বামী-স্ত্রী বিমানে করে গিয়েছিলো ভারতের চেন্নাই, তিনমাস সেখানে চিকিৎসা শেষে টাকা কম থাকাতে লোকাল বিমানে কলকাতা এসেছিলো। তারপর তারা বাই রোডে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চেয়েছিলো। ভাগ্য তাদের খারাপ ছিলো, বাসে পর্যাপ্ত যাত্রী না হওয়ার কারনে তারা নির্দিষ্ট সময়ে বাই রোডে আসতে পারেনি। বাধ্য হয়ে হোটেলে উঠতে হয়েছিলো, বিপত্তি বাধে যখন স্বামী নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যায়। সেখানে উগ্র হিন্দুরা হঠাৎ আক্রমন করে বসে, ফলে সাইদুর নামে বাংলাদেশী রোগী সেখানেই হিন্দুদের লাথি আর ঘুশীতে প্রান হারায়। ঘটনাটি গত শুক্রবারে ঘটেছে, কোন পত্রিকা বা মিডিয়া আসল সত্যটা প্রকাশ করেনি।” (সকল বানান অপরিবর্তিত)

আরও পড়ুন

ছবিগুলির উপর লেখা হয়েছে, “ভারতে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর বাংলাদেশী রোগী নিহত।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল পোস্টের দাবিটি পুরোপুরি ভুয়ো। কলকাতায় বা ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে কোনও বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করার কোনও ঘটনা ঘটেনি। সেই সঙ্গে পোস্টে থাকা ছবি দুটি ২০২৫ সালের দুটি পৃথক ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সত্য উদঘাটন

ভারতে বা কলকাতায় যদি সত্যিই কোনও বাংলাদেশি রোগী বা ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো ঘটনা ঘটে থাকতো, তবে সেই বিষয়ে ভারতীয় বা বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পেত। কিন্তু কোনও সংবাদ মাধ্যমে, এমনকি নির্ভরযোগ্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়া সূত্রেও এমন কোনও ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

Advertisement

ভাইরাল পোস্টে থাকা ছবিগুলি একে একে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে প্রথম ছবিটি দেখা যায় বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম ইনকিলাব ডিজিটালের ইউটিউব চ্যানেলের একটি ভিডিও-র থাম্বনেলে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “মসজিদের সামনে মুসলমানদের ওপর হা*ম*লা ভারতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড়।”

২০২৫ সালের ১৫ মার্চ আপলোড হওয়া এই ভিডিওতে ভারতে নানা সময়ে মুসলিমদের উপর হামলার কথা তুলে ধরা হয়। যদিও প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে যে ছবিগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল তার মধ্যে একটি ছবি ছিল ২০২১ সালে আফগানিস্তানের মসজিদে হওয়া বিস্ফোরণের। এর সঙ্গে ভারতের কোনও সম্পর্ক নেই। আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভাইরাল পোস্টে প্রথম ও দ্বিতীয় উভয় ছবিতে “ভারতে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বের হওয়ার পর বাংলাদেশী রোগী নিহত” লাইনটি লেখা ছিল। কিন্তু আসল থাম্বনেলের ছবিতে এমন কোনও লাইন লেখা হয়নি।

এরপর দ্বিতীয় ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্যে খোঁজা হলে ওই একই ছবি দ্য অবর্জারভার পোস্ট নামের আরেক সংবাদ মাধ্যমের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এই খবর অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশের উন্নাওতে হোলির সময় শরীফ নামে এক মুসলিম ব্যক্তির মৃত্যু হয়। অভিযোগ ওঠে, তিনি মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার সময় একদল যুবক জোর করে তাঁর প্রতিরোধ সত্ত্বেও শরীফের গায়ে হোলির রং লাগিয়ে দেয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, শরীফ উন্নাওয়ের কাশিম নগরের বাসিন্দা ছিলেন। শরীফ সৌদি আরব থেকে বাড়ি ফিরে এসেছিলেন যেখানে তিনি ড্রাইভারের কাজ করতেন।

এই খবরে লেখা হয়, রং ছোড়াকে কেন্দ্র করে কাশিম ও একদল ব্যক্তিদের মধ্যে বচসা হয়। কথা কাটাকাটি হয়। ক্রমশ তা বড় আকার ধারণ করে এবং শরীফকে মারধর করা হয়। সেই সময় কয়েকজন ব্যক্তি এসে শরীফকে উদ্ধার করে, তাঁকে একটি সুরক্ষিত জায়গায় নিয়ে বসানো হয়। জল দেওয়া হয়। কিন্তু আচমকাই তিনি ঢলে পড়েন এবং তাঁর মৃত্যু হয়। প্রতিবেদনে কোথাও তাঁকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম দৈনিক জনকণ্ঠেও এই খবরটি একই ছবি ব্যবহার করে ২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশ করা হয়েছিল, সেখানেও শরীফকে বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এই বিষয়ে ১৬ এপ্রিল দ্য কুইন্ট একটি খবর প্রকাশ করেছিল। যেখানে উন্নাও পুলিশের একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। একটি এক্স পোস্টের মাধ্যমে উন্নাও পুলিশ দাবি করে যে, পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদযন্ত্র বিকল হওয়া উঠে এসেছে। শরীরে কোনও আঘাত পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ সবমিলিয়ে পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে দুটি পৃথক ও অসম্পর্কিত ঘটনার ছবি ব্যবহার করে বর্তমানে দাবি করা হচ্ছে যে ভারতে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে হয়েছে, যা ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।

Fact Check

Claim

গত শুক্রবার কলকাতায় সাইদুর নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে যে ভারতে চিকিৎসা করাতে এসেছিল।

Conclusion

এই ধরনের কোনও ঘটনা ভারতে ঘটেনি। পোস্টের প্রথম ছবিটি ২০২৫ সালের মার্চে ডেইলি ইনকিলাবে প্রচারিত একটি ভিডিও-র। দ্বিতীয় ছবিটি উত্তর প্রদেশের উন্নাওয়ের যেখানে ২০২৫ সালের মার্চে হোলির সময় স্থানীয় বাসিন্দা শরীফের মৃত্যু হয়েছিল।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement