
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিনেতা এবং গুরুদাসপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সানি দেওলকে উদ্ধৃত করে তাঁর একটি কথিত উক্তি-সহ একটি ফটোকার্ড বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এর মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে যে, এই অভিনেতা নাকি বিজেপিকে ‘গুন্ডাদের দল’ বলে কটাক্ষ করে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।
ভাইরাল পোস্টে অভিনেতাকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “অভিনেতা সানি দেওল: আমি বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেছি। কারণ... বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং গুন্ডা, স্কুলছুট, নিরক্ষর, বেকার এবং মগজধোলাই করা বোকাদের একটি সংগঠিত দল যারা সর্বদা দেশ ভাঙার জন্য কাজ করে!”
এই পোস্টটি শেয়ার করে কেউ কেউ ক্যাপশনে লিখেছেন, “অভিনেতা সনি দেওয়াল যে সব কথা বলে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আপনাদের মতে সনি দেওয়াল ঠিক বলেছেন / না ভুল বলেছেন অবশ্যই জানাবেন।”
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে সানি দেওল এমন কোনও মন্তব্যও করেননি, এবং তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি থেকেও পদত্যাগ করেননি।
সত্য উদঘাটন
যদি সানি দেওল সত্যিই আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করতেন অথবা দলের বিরুদ্ধে এমন কোনও বিবৃতি দিতেন, তাহলে অসংখ্য সংবাদমাধ্যম এই বিষয়ে প্রতিবেদন করত। তবে, আমরা এমন কোনও সংবাদ প্রতিবেদন পাইনি যেখানে সানি দেওল বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলেছেন।
প্রসঙ্গত, সানি দেওল ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর লোকসভা আসন থেকে প্রার্থী হন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেন ও সাংসদ হন।
২০২৩ সালের অগস্ট মাসের মানি কন্ট্রোলের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সানি দেওল ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে তিনি সেই ভোটে আর লড়বেন না। তিনি বলেছিলেন যে তিনি রাজনীতি এবং অভিনয় উভয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না। তাই তিনি অভিনয়ের উপর মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সানি দেওল বলেছিলেন, "অভিনয় জগতে আমি যা ইচ্ছা তাই করতে পারি। কিন্তু রাজনীতিতে যদি আমি কোনও প্রতিশ্রুতি দেই এবং তারপর তা পূরণ করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমি তা সহ্য করতে পারি না। আমি তা করতে পারি না।"
বর্তমান পাঠানকোটের বিধায়ক এবং পঞ্জাব বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি অশ্বিনী কুমার শর্মা আমাদের জানান যে, নির্বাচনে সানি দেওল নির্বাচনে লড়তে অস্বীকার করলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দল থেকে পদত্যাগ করেছেন, এমন কোনও তথ্য নেই।
সানি দেওলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও বহুবার একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। আজতকের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি সংসদে মাত্র একটি প্রশ্ন করেছিলেন এবং তাঁর উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ১৮ শতাংশ। নির্বাচনে জয়লাভের পর সানির বিরুদ্ধে তাঁর লোকসভা কেন্দ্রে না যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি, গুরুদাসপুরের একজন বাসিন্দা তৎকালীন লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লাকে একটি চিঠি লিখে সানি দেওলের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি জানান।
দিনকয়েক আগে এই একই ফটোকার্ড হিন্দিতেও ভাইরাল হয়েছিল। তখনও আজতক এর ফ্য়াক্ট চেক করে। সবমিলিয়ে, এটা স্পষ্ট যে সানি দেওলের নামে একটি ভুয়া পোস্টকার্ড শেয়ার করা হচ্ছে।
অভিনেতা সানি দেওল বিজেপি থেকে পদত্যাগ করে বলেছেন যে বিজেপি কোনও রাজনৈতিক দল নয়, বরং গুন্ডাদের দল।
সানি দেওল বিজেপির বিরুদ্ধে এমন কোনও বিবৃতি দেননি এবং তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের বিষয়ে কোনও প্রকাশ্য তথ্যও নেই।