
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর একটি বক্তব্যের ভিডিও বেশ ভাইরাল হচ্ছে। এই ভিডিওতে শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে দিল্লি পুলিশ পালিয়েছে।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে একে শুভেন্দু অধিকারীর নিজের বক্তব্য বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, "শুভেন্দু অধিকারী ঠিক- ই বলেছেন। বাংলার বাঘিনী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।"
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভিডিওতে থাকা বক্তব্য আসল প্রেক্ষাপট ছাড়াই শেয়ার করা হচ্ছে। তিনি তৃণমূলের আইটি সেল তথা পরামর্শকারী সংস্থা আইপ্যাকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে কটাক্ষের সুরে এই কথা বলেছিলেন।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের সাহায্যে খোঁজা হলে ওই একই সাংবাদিক সম্মেলনের ভিডিও আজ বিকেল নামের একটি ওয়েব পোর্টালের ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। এই ভিডিও-র চার মিনিট থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য শোনা হলে এই বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বোঝা যাবে।
দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থানকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, “আজকে দিল্লিতে যা উনি করেছেন প্রথমার্ধে, আমি ধন্যবাদ জানাই দিল্লি পুলিশকে। ওনার ড্রামা বেশিক্ষণ চলেনি।....আপনারা জানেন নিউ দিল্লি হচ্ছে অতি স্পর্শকাতর জায়গা। সংসদ অধিবেশন চলছে। সেখানে প্রত্যেকটা রাজ্যের সে সমস্ত আবাস বা ভবন আছে, সেখানে দিল্লি পুলিশের কড়া নজরদারী থাকে। এবং আজকে অতিরিক্ত কিছু ওখানে ছিল না। সাধারণ পুলিশিং ছিল।”
এরপর শুভেন্দু আরও বলেন, “এবং একটা বয়স্ক, প্রবীণা মহিলা, তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী, তিনি যদি সাধারণ কনস্টেবলের দিকে তেড়ে যান, তাহলে তারা ওখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তারা নারীদের সম্মান, এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা...এখানের পুলিশ তো নয় যে বিরোধী দলনেতার মানে জানে না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মানে জানে না। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে সম্মান দিতে জানে না। বিধায়ক, সাংসদদের সম্মান দিতে জানে না। কিন্তু দিল্লির পুলিশ একজন তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী এবং একজন প্রবীণা মহিলা, তাঁকে সম্মান দিয়ে সরে গেছে। আর আই প্যাকের ড্রামা নাটকবাজ কম্পানি, তারা ছবি তুলে বলছে, মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে দিল্লি পুলিশ পালিয়ে গেছে।”
অর্থাৎ, সম্পূর্ণ বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে ভাইরাল ভিডিওতে থাকা শুভেন্দুর বক্তব্যের অংশ তাঁর নিজের নয় বরং তিনি অন্য প্রসঙ্গ উদ্ধৃত করে বলেছিলেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি শুভেন্দু অধিকারী নিজেও এই সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিওটি তাঁর পেজে পোস্ট করে লিখেছিলেন, “লোকভবনের (সাবেক রাজভবন) বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি।” আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২ ফেব্রুয়ারি তিনি লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের হাতে এসআইআর সংক্রান্ত দাবিপত্র তুলে দেন।
প্রসঙ্গত, গত ২ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে অবস্থানকালে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে দিল্লি পুলিশ আচমকাই বঙ্গভবনে তল্লাশি করতে ঢুকেছে। সেই সময় অকুস্থলে গিয়ে পৌঁছন মমতা। সেই ঘটনা সম্পর্কেই বক্তব্য রাখার সময় উক্ত মন্তব্যগুলি শুভেন্দু অধিকারী করেছিলেন।
শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে দিল্লি পুলিশ পালিয়ে গেছে।
এই বক্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর নয়। তিনি তৃণমূলের পরামর্শকারী সংস্থা আইপ্যাককে কটাক্ষ করে বলছিলেন যে তারা দিল্লির ঘটনার ভিডিও প্রচার করে এমন দাবি করছে।