
বাংলাদেশের নব-নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এক শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন। এবং সেই বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপের থেকেও নাকি তাঁকে সাবধান করা হয়েছে! সম্প্রতি এমন দাবিতে দুটি ফটো কার্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
এই কার্ডের একটিতে রাহুল গান্ধীকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “একদলীয় শাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি বরাবরই সোচ্চার ছিল এবং থাকবে। দেশের স্বার্থে বিএনপি কখনো আপস করেনি, করবে না! নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানকে নিজের হাতে রাখতে চাই। আমরা ভারতবাসী চাই তারেক রহমান সুন্দরভাবে দেশকে পরিচালনা করুক। দেশ চালানোর জন্য অন্য কোন দেশের গোলামী করা যাবে না। যে কারণে বাংলাদেশের বদনাম হয়, যেমনটা শেখ হাসিনার আমলে হয়েছে। আশা করি বিএনপি সঠিক রাস্তায় হাঁটবে।” (সকল বানান অপরিবর্তিত)
একই ফেসবুক পেজের অন্য একটি পোস্টে প্রিয়ঙ্কা গান্ধীকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, “বিএনপি মানেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতীক! গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে বিএনপি কখনো পিছপা হয়নি, হবেও না! কংগ্রেস বিএনপি'র পাশে সব সময়ই ছিল ও ভবিষ্যৎও থাকবে। আমরা চাই বিএনপি সঠিকভাবে বাংলাদেশকে পরিচালনা করুক। ভারতের কথামতল শেখ হাসিনার মতন গোলামী না করে রাজার মতন বাংলাদেশকে পরিচালনা করবে। এতে করে বাংলাদেশ-ভারতের কাছে সম্মান পাবে। কিন্তু মোদির পাতা ফাঁদে পা দিলে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” (সকল বানান অপরিবর্তিত)
উভয় পোস্টের ক্যাপশনেই লেখা হয়েছে, তারেক রহমানকে এক বার্তায় এই কথা বলেছেন রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ফটো কার্ডে থাকা বক্তব্যগুলি ভুয়ো ও মনগড়া। রাহুল বা প্রিয়ঙ্কা, কেউই তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে জনসমক্ষে কোনও বার্তাই দেননি।
সত্য উদঘাটন
বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে শুভেচ্ছা জানান। তাঁদের শুভেচ্ছাবার্তা সম্পর্কে নানা সংবাদ মাধ্যমে খবরও প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এমন কোনও খবরের হদিশ মেলেনি যেখানে রাহুল গান্ধী বা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, এমন কোনও তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
এহেন দাবির সত্যতা যাচাই করতে এরপর রাহুল গান্ধীর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সেখানে তারেক রহমানকে নিয়ে কোনও ধরনের পোস্ট পাওয়া যায়নি। একই ভাবে, প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর এক্স, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলেও তারেক সম্পর্কে বা তাঁকে উদ্দেশ্য করে কোনও পোস্ট দেখতে পাওয়া যায়নি।
ভারতের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও বার্তা না এলেও দলটির জাতীয় সভাপতি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গের পক্ষ থেকে বিএনপি তথা তারেক রহমানকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি শুভেচ্ছাবার্তা দেওয়া হয়েছিল।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে একটি এক্স পোস্টে জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি খাড়্গে লেখেন, “ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আমি বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় শ্রী তারেক রহমান এবং বিএনপি-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি এবং বহু অন্যান্য ক্ষেত্রে গভীর ও অটুট বন্ধন বিদ্যমান। একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ আমাদের অঞ্চলজুড়ে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এবং এমন বাংলাদেশকে সব ভারতীয়ই সমর্থন করবে।”
অর্থাৎ পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে কংগ্রেসের তরফে বা রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর তরফে তারেক রহমানকে এমন কোনও বার্তা দেওয়া হয়নি যা এখানে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী শুভেচ্ছাবার্তা দিয়েছেন এবং সেখানে নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ নিয়েও মন্তব্য করেছেন।
এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো। রাহুল গান্ধী বা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী—কেউই তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে কোনও বার্তা দেননি; ভাইরাল ফটো কার্ডের বক্তব্যগুলো মনগড়া।