Advertisement

ফ্যাক্ট চেক: সনাতনীদের কীর্তন সভায় মুসলিমদের হামলা দাবিতে ভিডিওটি একটি নাটকের অংশ

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভাইরাল ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চস্থ হওয়া একটি নাটক বা যাত্রাপালার। কোনও আসল ঘটনার নয়।

ঋদ্ধীশ দত্ত
  • কলকাতা,
  • 20 Mar 2026,
  • अपडेटेड 11:48 AM IST

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্যান্ডেল দিয়ে ঘেরা একটি জায়গায় কীর্তন অনুষ্ঠান চলাকালীন হাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালাচ্ছে দুই ব্যক্তি।

উভয় ব্যক্তিকেই ফেজটুপি পরিহিত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। যা থেকে তাদের মুসলিম ধর্মাবলম্বী বলে অনুমান করা যায়। ভিডিওটি শেয়ার করে এমন ক্যাপশন লেখা হয়েছে, যেখানে ইঙ্গিত করা যে মুসলিমরা হিন্দুদের পূজা অর্চনা চলাকালীন হামলা করেছে।

ক্যাপশনে লেখা হয়, “সত্য ত্রেতা দ্বাপর যুগে যে রাক্ষস দানবরা সনাতনীদের নাম যজ্ঞ পূজার্চনা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আক্রমণ করে সমস্ত কিছু লন্ড ভন্ড করে দিতো, আজ কলিযুগেও সেই নরপশু রাক্ষসরা তাই করছে।”

এই ভিডিওটি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বেশ কিছু বিজেপি সমর্থিত ফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছে। অনেকেই কমেন্টে রাজ্য সরকার এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে ভাইরাল ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চস্থ হওয়া একটি নাটক বা যাত্রাপালার। কোনও আসল ঘটনার নয়।

সত্য উদঘাটন

প্রথমত, ভিডিওটি দেখলে সন্দেহ জাগে। কারণ কীর্তন চলাকালীন হামলা দেখা গেলেও আশেপাশে উপস্থিত কোনও ব্যক্তিকে আতঙ্কিত হতে বা চিৎকার করতে দেখা যাচ্ছে না। হামলার মতো ঘটনা ঘটলে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক।

এই সূত্র ধরে কীওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই অনুষ্ঠানের একাধিক অন্যান্য ভিডিও হেমন্ত বর্মণ নামে এক বাংলাদেশি ফেসবুক ইউজারের প্রোফাইলে পাওয়া যায়। হেমন্ত বর্মণের প্রোফাইল ঘাঁটলে বোঝা যায়, তিনি নারীর ভূমিকায় এই ধরনের নানা পালায় অভিনয় করে থাকেন এবং সেই সংক্রান্ত নানা ভিডিও নিয়মিতভাবে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে আপলোড করেন।

ওই ইউজারের প্রোফাইলে একই অনুষ্ঠানের অপর বেশ কয়েকটি ভিডিও পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায়, ওই অনুষ্ঠানস্থলে তথাকথিত হামলাকালী ওই দুই ব্যক্তি কোথাও নানা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে অভিনয় করছেন, পিঠে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে ব্যাকগ্রাউন্ডে যাত্রাপালার অনুরূপ সঙ্গীতও বাজানো হচ্ছে। সঙ্গে দর্শকরাও বসে রয়েছেন এবং সেই পালা দেখছেন।

Advertisement

একই অনুষ্ঠানের ভিডিওতে ক্যামেরা অন্য দিকে ঘোরানো হলে দেখা যায় কীর্তন মঞ্চের অপরদিকে প্রচুর দর্শক বসে এই অনুষ্ঠান দেখছেন। যা থেকে মোটামুটি আন্দাজ করা যায় যে ভাইরাল ভিডিওটি একটি স্ক্রিপটেড অনুষ্ঠানের অংশ মাত্র।

এই বিষয়ে হেমন্ত বর্মণের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমাদের নিশ্চিত করেন যে ভিডিওটি তাদের গান তথা নাট্য অনুষ্ঠান পালার এবং বাস্তব কোনও ঘটনার নয়। আলোচ্য ভিডিওটি বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও জেলার অন্তর্গত রুহিয়া অঞ্চলের যেখানে একটি মা মনসার গান ও নাট্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এখানে একটি গল্পের নাট্যরূপ তুলে ধরে হয়েছে এবং বাস্তবের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

অর্থাৎ বুঝতে বাকি থাকে না যে একটি নাট্যপালার ভিডিওকে আসল এবং সাম্প্রদায়িক ঘটনা দাবিতে শেয়ার করা হচ্ছে যা বিভ্রান্তিকর।

 

 

Fact Check

Claim

ভিডিওতে সনাতনীদের কীর্তন সভায় মুসলিমদের হামলা করতে দেখা যাচ্ছে।

Conclusion

ভিডিওটি বাংলাদেশের একটি স্ক্রিপ্টেড নাট্যপালা/যাত্রার অংশ, বাস্তব কোনও ঘটনার নয়।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  1. কাক: অর্ধসত্য
  2. একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  3. অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Do you think a messenge is a fake ?
To know the truth, send that to our Number73 7000 7000 you can email on factcheck@intoday.com
Read more!
Advertisement
Advertisement