অতি বড় তৃণমূলের সমর্থকও অস্বীকার করতে পারবেন না কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র একে অপরের চক্ষুশূল। একটা সময়ে 'শুয়োরের সঙ্গে তুলনা' করা থেকে শুরু করে 'চোর জোচ্চর' তকমাও প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু সেই দুই 'চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী'-কে এবার দেখা গেল খোশগল্পে মেতে উঠতে। কীভাবে ঘটল এমনটা?
প্রকাশ্যে বিরোধিতার পর এবার প্রকাশ্যে আড্ডা। রবিবার বিশিষ্ট সাংবাদিক রাজদীর সারদেসাই এবং তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিক ঘোষের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান। সেখানেই গল্প মশগুল হতে দেখা গেল কল্যাণ-মহুয়াকে।
নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশিই নিজেদের মধ্যেও কুশাল বিনিময় করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মহুয়া মৈত্র।
নীল জমকালো শাড়ি, শাল আর হালকা মেকআপে দেখা গিয়েছে মহুয়া মৈত্রকে। স্যুটেড বুটেড কল্যাণও ছিলেন নজরকাড়া। কৃষ্ণনগরের সাংসদের হাসি ঠাট্টা করতে দেখা যায় শ্রীরামপুরের সাংসদকে। এতে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন তাঁরা।
সেই সব ছবি আবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেছেন কল্যাণ। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মহুয়া মৈত্রর এমন হাসি ঠাট্টার ছবি রীতিমতো ভাইরাল।
একসময়ে উভয়ের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের দুই সাংসদের মধ্যে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘নারীবিদ্বেষী, হতাশগ্রস্ত’ বলেছিলেন মহুয়া।
পালটা মহুয়ার ‘মুখ দেখলে দিন খারাপ যায়’ মন্তব্য করতেও শোনা গিয়েছিল কল্যাণকে। সহকর্মী হলেও উভয়ের সম্পর্ক হয়ে উঠেছিল একেবারে শাপে-নেউলে।
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায়, তৃণমূলের 'চিফ হুইপে'র পদ ছাড়ার ঘোষণা করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই সাংসদের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই তীব্র হয়ে ওঠায় একটা সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়।
কিন্তু সব তিক্ততা ভুলে কল্যাণ এবং মহুয়াকে খোশমেজাজে দেখে তৃণমূল সমর্থকরাও উচ্ছ্বসিত।
মহুয়া-কল্যাণর এই সখ্যতা আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষে ভাল বলেই মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরাও।