Advertisement

SIR-এর জেরে কলকাতায় ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যুর বন্যা, একবছরের তুলনায় দশগুণ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতার এক নতুন চিত্র সামনে এসেছে। কলকাতা কালেক্টরেট সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দু'মাসে আবাসিক বা স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজারে। যেখানে আগে বছরে গড়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র দেড় হাজারের মতো।

Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 10 Feb 2026,
  • अपडेटेड 11:14 AM IST
  • ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতার এক নতুন চিত্র সামনে এসেছে।
  • কলকাতা কালেক্টরেট সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দু'মাসে আবাসিক বা স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজারে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে রাজ্যে প্রশাসনিক তৎপরতার এক নতুন চিত্র সামনে এসেছে। কলকাতা কালেক্টরেট সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দু'মাসে আবাসিক বা স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ হাজারে। যেখানে আগে বছরে গড়ে এই সংখ্যা ছিল মাত্র দেড় হাজারের মতো।

কালেক্টরেটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এসআইআর শুনানির প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ১৬,৯০০-রও বেশি আবাসিক শংসাপত্র বা ডোমিসাইল সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। অথচ ডিসেম্বরের শেষের দিকে এসআইআর শুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগেও কলকাতা কালেক্টরেট বছরে গড়ে প্রায় ১,৫০০টি আবাসিক শংসাপত্র জারি করত। প্রশাসনের মতে, এই হঠাৎ বৃদ্ধি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় বহু মানুষ আগেভাগেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

আবাসিক বা স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র সাধারণত সেই সমস্ত আবেদনকারীদের দেওয়া হয়, যাঁরা কমপক্ষে ১৫ বছর ধরে কোনও নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন। এই শংসাপত্র বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। যেমন রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আবেদন, অন্য রাজ্যে হোস্টেলে ভর্তির ক্ষেত্রে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত চাকরি কিংবা অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত নথিভুক্তিকরণে।

এসআইআর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভোটারদের যে গণনা ফর্ম পূরণ করতে বলা হয়েছিল, সেখানে শুনানির সময় জমা দেওয়া যেতে পারে, এমন নথির তালিকায় আবাসিক শংসাপত্রের নাম ছিল। তবে এই শংসাপত্র আদৌ বৈধ বসবাসের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হবে কি না, তা নিয়ে শুরুতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। সেই বিভ্রান্তির অবসান ঘটে শুক্রবার, যখন নির্বাচন কমিশন বাংলার মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে জানায় যে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, উপ-বিভাগীয় কর্মকর্তা অথবা কলকাতার ক্ষেত্রে কালেক্টরের জারি করা 'পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আবাসিক শংসাপত্র' গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

কালেক্টরেটের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এসআইআর-এর জন্য বিশেষভাবে ইস্যু করা আবাসিক শংসাপত্র চিহ্নিত করা সহজ। কারণ প্রতিটি শংসাপত্রে জারি করার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। জানা গেছে, ২৪ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মোট ১৬,৯২৫টি আবাসিক শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে।

Advertisement

মোট ১৯,১৬৭টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি আবেদন বাতিল হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি আবেদনই বাধ্যতামূলকভাবে পুলিশ যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়। যাঁরা ১৫ বছরের বসবাসের শর্ত পূরণ করতে পারেননি, তাঁদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজেরাই পরে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন, আবার কিছু আবেদন ফর্মে ত্রুটির কারণে বাতিল হয়।

আবেদনকারীদের বড় অংশই অভাবী মানুষ। বিশেষ করে দৈনিক মজুরির কাজে যুক্ত ব্যক্তিরা। যাঁদের কাছে এসআইআর শুনানির সময় চাওয়া অন্যান্য নথিপত্র ছিল না। তাঁরা আবেদনের সঙ্গে আধার কার্ড, রেশন কার্ড, স্থানীয় কাউন্সিলরের সার্টিফিকেট জমা দিয়েছেন। কেউ কেউ ভাড়ার রসিদ, ভাড়ার চুক্তিপত্র বা সম্পত্তির মালিকানার দলিলও জমা করেন। পুলিশ সশরীরে এলাকায় গিয়ে যাচাই করেছে আবেদনকারীরা সত্যিই ১৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে সেখানে বসবাস করছেন কি না।আবেদনকারীদের মধ্যে বিয়ের পরে শ্বশুরবাড়িতে চলে আসা মহিলার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা।

যেখানে আগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগত, সেখানে এই সময়ে গড়ে সাত থেকে আট দিনের মধ্যেই শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছে। পুলিশ যাচাইয়ের রিপোর্টও স্বাভাবিকের তুলনায় দ্রুত পাওয়া গিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তারা।


 

Read more!
Advertisement
Advertisement