
ভোটমুখী বাংলায় রেলকেই বড় অস্ত্র হিসেবে সামনে আনছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের তেমনটাই মত। বন্দে ভারত স্লিপারের পর এবার রাজ্য পাচ্ছে নতুন প্রজন্মের স্বল্পমূল্যের দ্রুতগামী ট্রেন, ‘অমৃত ভারত এক্সপ্রেস’। কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সফরের আগে রেল মন্ত্রক একযোগে দুই রাজ্য থেকে ৯টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালুর ঘোষণা করল।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত পরিযায়ী শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের কথা মাথায় রেখেই এই ট্রেনগুলির সূচনা। কম খরচে, তুলনামূলক দ্রুত গতিতে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রা সহজ করাই লক্ষ্য। এই পরিষেবার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম সরাসরি যুক্ত হবে বিহার, উত্তরপ্রদেশ হয়ে দিল্লি, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র ও কর্নাটকের মতো বড় রাজ্যগুলির সঙ্গে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গের নিউ জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার স্টেশনকে। এই দুটি স্টেশন থেকেই দক্ষিণ ভারত ও মুম্বইমুখী একাধিক অমৃত ভারত ট্রেন চালু হচ্ছে। ফলে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু কিংবা মুম্বইয়ের মতো বড় কর্মসংস্থান কেন্দ্রগুলিতে পৌঁছনো হবে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী।
এক নজরে ৯টি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস রুট
গুয়াহাটি (কামাখ্যা) - রোহতক
ডিব্রুগড় - লখনউ (গোমতী নগর)
নিউ জলপাইগুড়ি - নাগেরকয়েল
নিউ জলপাইগুড়ি - তিরুচিরাপল্লী
আলিপুরদুয়ার - এসএসভিটি বেঙ্গালুরু
আলিপুরদুয়ার - মুম্বই (পানভেল)
কলকাতা (সাঁতরাগাছি) - তাম্বরম
কলকাতা (হাওড়া) - আনন্দ বিহার টার্মিনাল, দিল্লি
কলকাতা (শিয়ালদা) - বেনারস
অর্থাৎ, হাওড়া থেকে একটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস চালু হচ্ছে, যা সরাসরি দিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনাল পর্যন্ত যাবে। রেল আধিকারিকদের দাবি, অমৃত ভারত ট্রেনগুলিতে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও ভাড়ার ক্ষেত্রে সাধারণ যাত্রীদের সামর্থ্যের দিকেই বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ, দুই অঞ্চল থেকেই এই ট্রেনগুলি চালু হলে পরিযায়ী শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার বড়সড় সমাধান হবে বলেই মনে করছেন রেল ও পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।