
ভোটের মুখে পুলিশের শীর্ষপদে রদবদল ঘিরে শুরু রাজনৈতিক তরজা। কলকাতা পুলিশ কমিশনার পদে আইপিএস সুপ্রতিম সরকারের নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, সন্দেশখালি-কাণ্ড সামলানোর ‘পুরস্কার’ হিসেবেই তাঁকে নগরপালের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সিপি পদে বসতেই এই ভাষাতেই কটাক্ষ ছুড়েছে বিরোধী শিবির।
বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, সুপ্রতিম সরকারের অতীত ভূমিকা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'সিঙ্গুরে কৃষকদের আন্দোলনের সময় সুপ্রতীম সরকার বামফ্রন্ট সরকারের অফিসার হিসেবে কৃষকদের উপর লাঠিচার্জ করেছিলেন। তখন তিনি ছিলেন বুদ্ধবাবুর ‘কোলের অফিসার’। এখন সিঙ্গুরকে মই করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে নিজের কোলে বসিয়েছেন।'
নন্দীগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষও একই সুরে। তিনি বলেন, 'এটা শুধু সন্দেশখালির পুরস্কার নয়। সিঙ্গুরের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএম-এর কথায় আটকেছিলেন। সুপ্রতিম সরকার সম্পর্কে আমার থেকেও বেশি জানেন প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ।'
এই অভিযোগের পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, 'এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক রদবদল। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। দল হিসেবে আমাদের কিছু বলার নেই।'
তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক আরও কড়া ভাষায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, 'এই ধরনের কথা বিজেপিই বলতে পারে। উন্নাওয়ের মতো ঘটনায় যাঁরা ধর্ষকদের মালা পরিয়ে সম্মান জানায়, তাঁদের কাছ থেকে আর কীই বা আশা করা যায়! বিকৃত মানসিকতা থেকেই এ সব কথা বলা হচ্ছে।'
উল্লেখ্য, এতদিন কলকাতা পুলিশের কমিশনার পদে ছিলেন মনোজ বর্মা। তাঁকে সরিয়ে এবার রাজ্যের ডিরেক্টর অব সিকিউরিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নগরপালের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন আইপিএস সুপ্রতীম সরকার, যিনি এতদিন রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।