
অসুস্থতা, না কি সঙ্গী হারানোর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত, ঠিক কোন কারণে এমন অস্বাভাবিক আচরণ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আলিপুর চিড়িয়াখানার একমাত্র পুরুষ জলহস্তীকে ঘিরে উদ্বেগ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা মানছেন পশু চিকিৎসক থেকে শুরু করে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ সকলেই। টানা ১৪ দিন ধরে জলাশয় ছেড়ে না ওঠায় তার শারীরিক অবস্থার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিতে হচ্ছে বিশেষজ্ঞদের।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওড়িশার নন্দনকানন চিড়িয়াখানা থেকে একজোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল আলিপুরে। কিন্তু, এখানে আসার কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয় স্ত্রী জলহস্তীর। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিল পুরুষ জলহস্তীটি। কিন্তু বড়দিনের ঠিক আগেই হঠাৎ বদলে যায় তার আচরণ। খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি রাতের বেলায় নাইট শেল্টারেও আর ফিরছে না সে। দিন-রাত এক করে জলাশয়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে থাকছে জলহস্তীটি।
জলহস্তীর শরীর আকারে বিশাল হলেও তাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। সূর্যের তাপ থেকে শরীর রক্ষা করা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য জল তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই কারণেই চিড়িয়াখানায় জলহস্তীদের আবাসস্থলে সর্বক্ষণ জলাশয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়। সাধারণত সকালে নাইট শেল্টার থেকে বেরিয়ে তারা সারাদিন জলে থাকে এবং সন্ধের আগে আবার বিশ্রামকক্ষে ফিরে যায়। কিন্তু এই জলহস্তীর ক্ষেত্রে সেই স্বাভাবিক রুটিন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
প্রথমে মনে করা হয়েছিল, হয়তো পায়ে কোনও আঘাত লাগার কারণেই সে জল থেকে উঠতে পারছে না। সেই সন্দেহে রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকেরা জলাশয়ের জল কিছুটা কমিয়ে জলহস্তীটিকে তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু জল কমতেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে শুরু করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত ফের জলাশয়ে জল ভরে দেওয়া হয়।
এই মুহূর্তে জলহস্তীটি ঠিক কোন সমস্যায় ভুগছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারছেন না চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তবে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে কোনও রকম ত্রুটি রাখা হচ্ছে না বলেই জানানো হয়েছে।
আলিপুর চিড়িয়াখানার অধিকর্তা তৃপ্তি শাহ বলেন, 'একটি জলহস্তী বর্তমানে অসুস্থ। আমাদের পশু চিকিৎসকরা নিয়মিত তার চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ করছেন। কী কারণে এই অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে। জলহস্তীটির সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।'
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে জল ছাড়তে না চাওয়ার এই আচরণ শারীরিক সমস্যার ইঙ্গিত, না কি সঙ্গী হারানোর মানসিক প্রভাব, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। জলহস্তীটি কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আলিপুর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ।