
শুক্রবার মধ্যরাতের প্রবল ঝড়বৃষ্টি দেখেছে কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা। আর এমন বিপর্যস্ত আবহাওয়ার জেরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ফ্লাইট কলকাতায় ল্যান্ড করতে ২ ঘণ্টা দেরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিমানবন্দর সূত্রে যতদূর খবর, দিল্লি থেকে বিমানে আসছিলেন শাহ। তাঁর বিমানের অবতরণের নির্ধারিত সময় ছিল রাত ১১টা ৪৬ মিনিট। তবে সেই সময় হুট করে বদলে যায় কলকাতার আবহাওয়া। খেলা দেখাতে শুরু করে কালবৈশাখী। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাতে থাকে। প্রবল বেগে বইতে থাকে ঝড়। সঙ্গে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। যার ফলে তখন এয়ারপোর্ট বিমানটি নামতে পারেনি।
এই সময় বিমানটি অনেকটা সময় আকাশে চক্কর খায়। বিমানটি নৈহাটি, নদিয়া এবং উত্তর ২৪ পরগনার আকাশে চক্কর কাটতে থাকে বলে খবর।
তারপর আবহাওয়া শান্ত হলে ল্যান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই মতো শনিবার ভোর রাত ১টা ৪৬ মিনিটে বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। রাত ২ নাগাদ অমিত শাহ কনভয়ে করে শহরের একটি হোটেলের উদ্দেশে রওনা দেন। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বলে খবর।
এই প্রসঙ্গে এক বিজেপি নেতা জানান, শাহ রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে দিল্লি থেকে রওনা হয়েছিলেন। সেটাই রাত ২টো নাগাদ পৌঁছয় কলকাতা। প্রায় ২ ঘণ্টা দেরিতে বিমানটি কলকাতায় ল্যান্ড করেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানেও একই সমস্যার সম্মুখীন
শুক্রবার এই সমস্যার শিকার হয়েছেন অমিত শাহ। আর বৃহস্পতিবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমানও একই সমস্যার মুখে পড়ে। তিনি প্রচার সেরে অন্ডাল থেকে কলকাতা আসছিলেন। সেই সময় প্রবল ঝড়ের কারণে তাঁর বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরের আকাশে প্রায় এক ঘণ্টা চক্কর কাটে। তারপর নামে বিমানটি।
শাহের কী কর্মসূচি?
শনিবার দুপুরে নিউটাউনের এক হোটেলে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করার কথা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সরকারের বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ রয়েছে, তা থাকবে এই চার্জশিটে।
মাথায় রাখতে হবে, গত ২ মাস ধরে সংগঠনিক বৈঠক, জনসভা, প্রচার-অভিযান এবং ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মতো কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতে একাধিকবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসেছেন শাহ। তিনি যেন তেন প্রকারেণ পশ্চিমবঙ্গ দখল করতে চাইছেন। এখন দেখার সেই কাজে তিনি কতটা সফল হন। বিজেপি বাংলা জয় করতে পারে কি না।