
২৬ জানুয়ারি ভোরে ইএম বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুরের কাছে দুটি গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে অন্তত ১৮ জনকে ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে।
আগুন লাগার পর গুদামের ভিতরে আটকে থাকা ২৭ জন কর্মী আর বাড়ি না ফেরায় তাঁদের নিখোঁজ বলে ঘোষণা করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। বাকি নমুনার পরীক্ষা এখনও চলছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
বারুইপুর পুলিশ জেলার এক ঊর্ধ্বতন কর্তার কথায়, শনাক্ত হওয়া মৃতদের মধ্যে ১৬ জন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বাসিন্দা। এছাড়া একজন বারুইপুরের এবং একজন পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা।
শনাক্ত হওয়া মৃতদের পরিবারের হাতে ডেথ সার্টিফিকেট তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশ মিললেই দেহাবশেষ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হবে বলে সূত্রের খবর।
২৬ জানুয়ারি ভোরে আনন্দপুরে পাশাপাশি থাকা দুটি গুদামে আগুন লাগে। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিরাপত্তা বিধি মানা না হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ শ্রমিকই আগুনের ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘটনায় একটি ডেকোরেটর সংস্থার গুদামের মালিক গদাধর দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি অন্য গুদামটি ব্যবহারকারী খাদ্য সংস্থা ওয়াও মোমোর দুই আধিকারিককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই সংস্থার তিন কর্মীও এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা দফতরের দাবি, দুটি গুদামের কোনওটিরই বৈধ অগ্নি-নিরাপত্তা শংসাপত্র ছিল না। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।