
লম্বা সময়ের জন্য বন্ধ হচ্ছে বেলঘরিয়া ব্রিজ। উত্তর দিকের ডানলপ, কামারহাটি ও সংলগ্ন এলাকা থেকে নিমতা ও বিরাটিকে যুক্ত করে ব্রিজটি। মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে ব্রিজটিতে। সেতুর কাঠামোগত স্থিতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই প্রকল্পে রেল এবং পিডব্লিউডি যৌথভাবে কাজ করবে। ফলে আগামী কয়েক মাস ওই সেতু দিয়ে কোনও যান চলাচল করা যাবে না। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট ইতিমধ্যেই বিকল্প যান চলাচলের জন্য একটি বিস্তারিত ডাইভারশন পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিরাটি ও নিমতার দিক থেকে বিটি রোডগামী এবং বিটি রোড থেকে বেলঘরিয়া স্টেশনের পূর্ব দিকের যাত্রীদের জন্য আলাদা রুট নির্ধারণ করা হয়েছে।
কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহা জানান, এই ডাইভারশনের কারণে কিছুটা অসুবিধা হবেই। তবে সেতুটির মেরামত অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। তাই কয়েক মাস নাগরিকদের ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করা হচ্ছে।
পিডব্লিউডির এক আধিকারিক জানান, সেতুর অন্তত এক ডজন গার্ডার বদলাতে হবে। এক পাশে সাতটি এবং অন্য পাশে পাঁচটি। ২০২৫ সালে হওয়া সেতুর ‘হেলথ অডিট’-এ ভারী যান চলাচলের কারণে কাঠামোর ক্ষতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরই রেলওয়ের সঙ্গে আলোচনা করে দুর্গাপুজোর পর কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে পুলিশ, রেল, পিডব্লিউডি ও কামারহাটি পুরসভার প্রতিনিধিরা একাধিকবার সেতু ও সংযোগকারী রাস্তা পরিদর্শন করেন। ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনার সমস্যা বুঝতে পরীক্ষামূলক ডাইভারশনও চালানো হয়।
ডাইভারশন অনুযায়ী, বিটি রোড থেকে নিমতার দিকে যাওয়া যানবাহন রথতলা মোড় থেকে নীলগঞ্জ রোড ধরে টেক্সম্যাকো হয়ে ৪ নম্বর রেল গেট পেরিয়ে এমবি রোড ও কালচার মোড় দিয়ে নিমতা ও কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যাবে। অন্যদিকে, বিরাটির এমবি রোড থেকে বিটি রোডগামী যানবাহন কালচার মোড় হয়ে পুরনো নিমতা রোড ধরে ২ নম্বর রেল গেট পেরিয়ে নীলগঞ্জ রোডে উঠবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাইভারশন কার্যকর হওয়ার প্রথম সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে, যাতে যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। প্রশাসনের তরফে যাত্রীদের সহযোগিতা ও ধৈর্যের আবেদন জানানো হয়েছে।