
Mamata Banerjee Dharna Live Updates: আজ, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধর্না কর্মসূচি নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের সামনে ধর্না-অবস্থান করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ভোটাররা এবং SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এদিন ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন।
রাতভর থাকবেন মমতা। আগামিকাল ফের সকাল ১০টা থেকে ধরনায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের যোগ দেওয়ার আর্জি জানালেন TMC সুপ্রিমো।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, ‘চুরি করে ভোটে জেতার জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ১ কোটি মানুষেরক নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ধরে ফেলেছেন বিএলএ-২-রা।’ এসআইআর নিয়ে যা হচ্ছে, তার জন্য ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মানসিকতার মতো’ লড়তে হবে বলে মন্তব্য করেন অভিষেক।
'অমিত শাহ এলে তাঁর সভা শুরু শেষ হয় আমার নাম দিয়ে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে। আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদীর একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।'
‘২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন বলেছিল ‘নো ভোট টু বিজেপি।’ আমরা এই মঞ্চে ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ বার বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। বিজেপিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করুন। যারা বিজেপির হয়ে গলা ফাটাত, তারা যুবশ্রীর ফর্ম পূরণ করছেন। দিলে মমতাদি-ই দেবে।’ বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘আমায় নিয়ে খুব জ্বালা। আজ অমিত শাহ এলে তাঁর ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি থাকি।’
অভিষেক আরও বলেন, 'অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। এবার নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বলতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করুন। ভারতবাসীর পোড়া কপাল। দেশ কার থেকে পেট্রোল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!'
‘বিবেচনাধীন নিয়ে আপত্তি নেই। ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিবেচনাধীন হয়ে থাকে তা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও বিবেচনাধীন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে লড়তে গিয়েছেন। আর কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেশের মানুষ সওয়াল করতে দেখেননি।’
‘ইতিমধ্যে বাংলা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছিল। খসড়া তালিকা সেটা। তার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেখা গেল সংখ্যাটা ৬৩-৫৪ লক্ষ। বিবেচনাধীন সংখ্যা ৬০ লক্ষের বেশি। সবমিলিয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ। বিজেপি নেতারা যে কথাটা আগে থেকে বলছিলেন। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।’
বললেন, 'সকলকে প্রণাম জানাই। রোজা রেখেছেন, রোজাদারদের, সকল ধর্মের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি সিবিআই, সংবাদ মাধ্যম। সবার উপরে চ্যালেঞ্জ থাকল। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। এক কোটির বেশি মানুষ! ১ কোটি ২৪ লক্ষ। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে বলেছিল। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে পথে নেমেছি, বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে তাল কাটল প্যারাটিচারদের বিক্ষোভ। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন প্যারাটিচার। তাঁদের দেখে মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই বলেন, 'রাজনীতি করবেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।' পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে গিয়ে তোলে গাড়িতে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার শনিবার ধর্নামঞ্চ থেকে বলবেন। তিনি বলেন, 'এ বার শতাব্দী বলবে। তার পর অভিষেক। আজ আমি আর বলছি না। আমি আবার কাল বলব।''
মমতার ধরনা মঞ্চে বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এটা সময় নয়, মানুষ মরছে। বিজেপি মাইন্ডেড সব। এদের এখানে কারা পাঠিয়েছে জানি। বিজেপি এসবের পিছনে। মানুষ মারা গেছে, তাদের জন্য আমরা এখানে এসেছি। বাকিদের দাবিও আছে। তাদের জন্য অন্য জায়গা আছে। মোদি, অমিত শাহ, ভ্যানিশ কুমারের কাছে যান।'
আমরা দিদির নেতৃত্বে লড়াই চালিয়ে যাব। বললেন সায়নী ঘোষ। এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার নয়। মাঞ্জা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।
রিভিউতে থাকা মানুষদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু । ইচ্ছে করে কমিশন এটা করেছে। তাঁদের ভোটাধিকার দিতে চায় না কমিশন। বিজেপি ও হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের। ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধর্নামঞ্চে বলতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না। বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না।’ তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ কৃষ্ণনগরের সাংসদের। তাঁর অভিযোগ, বড় ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে।
পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চের সামনে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেন - এটা বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা না, কিছু দেখানোর হলে মোদীকে গিয়ে দেখান! এখানে রাজনীতি করবেন না।
মমতাবালা ঠাকুর বললেন, 'মতুয়াদের নিয়ে যে আন্দোলন করে আসছি আমরা, নাগরিকত্ব ইস্যুতে লড়াই করে আসছি সেই ২০০৩ সাল থেকে। ভারতের তো এত নেতা রয়েছেন, কেউ তো সুপ্রিম কোর্টে যাননি। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন আমাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে। ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। সিএএ করার নামে মতুয়াদের কিছু মানুষ ভোট দিয়েছিলেন ২০১৯ সালে বিজেপিকে। আজও তারা নাগরিকত্ব পায়নি। তারা যখন সিএএ আবেদন শুরু করল, তখন কেন্দ্র SIR-এর নামে নাগরিকত্ব কাড়ার ষড়যন্ত্র করল। মতুয়া সমাজ আজ দিদির পাশে আছে। তারা এখন বুঝছে, মতুয়াদের অধিকার কাড়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'
ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবি জয় গোস্বামী। তিনি বলেন, 'আমি আর যতদিন বেঁচে থাকব, মমতার সঙ্গেই থাকব। আমি এরকম মুখ্যমন্ত্রীর আর কখনও দেখিনি।'
১০ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্বেও কেন্দ্র মতুয়াদের কোনও কাজ করে দেয়নি। সেই কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন। বললেন মমতাবালা ঠাকুর। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের জন্য ছুটে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জয় গোস্বামী বললেন,'অন্যায় হচ্ছে, মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা আমার ব্যক্তিগত কথা নয়। ৯০ বছর অতিক্রান্ত মানুষকে যেতে হচ্ছে প্রমাণ দিতে। কেউ আত্মহত্যা করছেন, মারা যাচ্ছেন।'
আমি প্রতিবার ২১ ফেব্রুয়ারির মঞ্চে যাই। অন্যায় হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার। আমাকে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সর্বোচ্চ লড়াই করতে পারেন। আত্ম সমালোচনাও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাট ও হাঁসখালিতে নিজের আত্মসমালোচনা করেন মমতা। যতদিন বাঁচব মমতার পাশে থাকব।
'আমি মনেপ্রাণে তৃণমূল মোটেও না, অনেক অভিযোগও রয়েছে। আমি পার্টি মেম্বারও নই। কিন্তু এতদিন ধরে এতটা সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্বপালন করে গেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশপাশে তাকিয়ে দেখুন, কী সুন্দর রাস্তাঘাট। আমাদের শহর এরকম আগে কখনও ছিল না। এগুলো সবই এই মানুষটার দান।'
ওঁকে যতবারই নেত্রী বলি, উনি বলেন, আমি তোমার বোন। উনি বোন এবং বন্ধুও বটে। উনি যে পদক্ষেপ নিলেন আদালতে গিয়ে, সেটা উনি না নিলে SIR নিয়ে এত হইচই হত না। এটা বুঝতে বিশেষ কোনও রাজনৈতিক জ্ঞান লাগে। আমি ভোট দেব এটা আমার অধিকার। আমি যেমন ইচ্ছে মতো ধর্মাচরণ করতে পারি, সেটা আমাদের অধিকার। তেমনই ভোট আমরা দেবই, সেটা আমাদের অধিকার। BJP সরকার, আপনারা আপনাদের কবর খুঁড়ে ফেললেন। আমার মনে হয়েছিল BJP নির্বোধ এবং নিরেট কিন্তু এতটা বোকা তা ভেবে হাসি পাচ্ছে। ওদের নেতারা বলছেন, ওরা জিতবেই, এটা সুনিশ্চিত।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই উদ্যোগ না নিলে SIR নিয়ে হইচই হতো না। ভোট দেওয়া আমাদের অধিকার। বিজেপি নিজের কবর খুড়েছে। বিজেপি কোনও দিনও জিতবে না। কলকাতার রাস্তা দেখুন, এত সুন্দর কোনওদিন ছিল না। এই ভোটে বাংলা জিতবে।
রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছে মেনকা গুরুস্বামী। সমকামী এই আইনজীবী এদিন তৃণমূলের ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে বললেন,'আমি একজন সাধারণ উকিল। তবে আমার মননে রয়েছে সংবিধান। কারণ এই সংবিধান আমাদের ভোটাধিকার দিয়েছে। বাংলার ৬০ লক্ষ নাগরিকের এই ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে আমরা এর জন্যই আদালতে লড়ছি। যাতে বাংলার মানুষের ভোটাধিকার ছিনিয়ে না নেওয়া হয়।'
সংবিধান বলে প্রতিটি মানুষের ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আছে। বললেন মেনকা গুরুস্বামী। আমরা প্রতিটি মানুষের ভোটের জন্য লড়াই করছি। জয় বাংলা জয় সংবিধান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে কবি জয় গোস্বামী, গায়ক-গীতিকার কবীর সুমন, রাজ্যসভায় মনোনীত তৃণমূল প্রার্থী প্রাক্তন পুলিশকর্তা রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয় মুখ্যমন্ত্রী নয়তো প্রধানমন্ত্রী হবেন। রাজ্যে বিজেপি ৩০ নেমে আসবে। ম়ঞ্চে বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার আর্শীবাদ ছিল বলেই শুভেন্দু অধিকারী হতে পেরেছো। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাঁটুর যোগ্যও নন। শুভেন্দুকে কটাক্ষ কল্যাণের। বিজেপি কোনও বিরোধীকে থাকতে দেবে না। অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টও নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা খর্ব করেছে। আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ডোরিনা ক্রসিংয়ে মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকেই সিঙ্গুর আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ২৬ দিন অনশন করেছিলেন সে সময়ে। সেই সময়ের স্মৃতিচারণা করে শুক্রবার মেট্রো চ্যানেলে আয়োজিত SIR বিরোধিতায় তৈরি ধর্নামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আজ এই মঞ্চে জয় গোস্বামী, কবীর সুমন এসেছেন। আমার সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ধর্নার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।'
আজ প্রতিবাদের আওয়াজ চাই সর্বক্ষেত্রে, বললেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ভারতে সর্বপ্রথম SIR নিয়ে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা দেশকে পথ দেখিয়েছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে চেলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে উত্তর ২৪ পরগনার রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট জানালেন, এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম নেই। তাঁকে মঞ্চে বলতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পর ওই সন্ন্যাসী বলেন, ‘‘আমি রামকৃষ্ণ সারদা মিশন থেকে এসেছি। আজ ১৪ বছর হল মিনাখাঁ রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রেসিডেন্ট। তা সত্ত্বেও আমার নাম বাতিল করা হয়েছে। আমি বেলুড় মঠের দশম প্রেসিডেন্ট স্বামী বীরেশ্বরানন্দের মন্ত্রশিষ্য। আমি আজ দিদির কাছে এলাম। বললাম, এ রকম যদি হতে থাকে তা হলে তো দেশের অবস্থা তো খুব খারাপ হবে।’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত শতাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী। বিকেল চারটে থেকে মিটিং হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে উপস্থিত সুব্রত বক্সী, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস-সহ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। ধর্না মঞ্চে উপস্থিত শতাধিক তৃণমূল নেতা-নেত্রী। বিকেল চারটে থেকে মিটিং হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে সামিল হতে চলেছেন কমিশনের তালিকায় মৃত ২২ জন। BLO অধিকার রক্ষা কমিটি মিছিল করে ধর্মতলায় আসছেন। সেখানে রয়েছেন মৃত BLO-দের পরিবারও।
নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে কটাক্ষ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্নামঞ্চ থেকে বলেন, ‘লজ্জা রাখার জায়গা নেই। ভোটার তালিকায় মৃতেরা এখানে বসে রয়েছেন।’মমতা আরও বলেন, ‘দেখুন, এঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এঁরা বসে থেকে প্রমাণ দিচ্ছেন, তাঁরা ভাল ভাবে বেঁচে আছেন।’
'মনে রাখবেন আমরা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কাজ করি। তাই আমরা খুঁজে বের করেছি। এমন অনেকে রয়েছেন, যাঁরা জীবিত কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁরা মৃত। তাঁদের আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই মঞ্চে হাজির করব। এখানে ব়্যাম্পে হাঁটাব তাঁদের। ২২টি এমন পরিবার রয়েছে। প্রতিদিন আমাদের সঙ্গেই এখানে আসবেন তারা'
ধর্না মঞ্চে রয়েছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। কতদিন ধর্না চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন তৃণমূলের সাংসদ-বিধায়করা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্না শুরু হয়ে গিয়েছে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে। এই ধর্নায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব রয়েছেন।
বাংলায় চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদ সভা। তাঁর অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে বেছে বেছে ভোটারদের নাম কেটে দিয়েছে। বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তা ছাড়া লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাঁরা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কিনা ঠিক নেই। এভাবে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে তালিকার বাইরে রেখে ভোট করা অসাংবিধানিক বলে তাঁর দাবি।
এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই সরব তৃণমূল নেত্রী। এবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর আবারও সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।
ভোটার তালিকায় বিচারাধীন থাকা ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার ঘিরে বাড়ছে সংশয়। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি-না, সেই আশঙ্কা রয়েছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম আগেই ভোটার তালিকায় বাদ পড়েছে, তার মধ্যে ‘বৈধ ভোটার’ রয়েছেন বলে তথ্য সামনে এসেছে। কমিশনের ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ বলা হয়েছে, এমন প্রচুর সংখ্যক ভোটার বাস্তবে ‘জীবিত’ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না মঞ্চে হাজির থাকতে চলেছেন। আজ মঞ্চ থেকে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে এক সুরে নিশানা করবেন মমতা, এমনই মত রাজনৈতিক মহলের। অবস্থান কর্মসূচি শুধুমাত্র আজ নাকি আরও কয়েকদিন চলতে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত করে কিছুই জানা যায়নি। তবে সূত্রের খবর, আজই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।