
সোমবার ছিল বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের শেষদিন। এদিকে উত্তরবঙ্গে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর অনুপস্থিতিতেই বগটুই-কাণ্ড নিয়ে বিধানসভায় হাতাহাতি। এই ঘটনায় বিজেপি যেমন তৃণমূলকে নিশানা করছে তেমনি জোড়াফুল শিবির আক্রমণ শানাচ্ছে পদ্মফুলের দিকেই। গোটা ঘটনা বিজেপির ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা মাফিক ঘটানো হয়েছে বলেই সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। পার্থবাবুর দাবি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতার প্ররোচনাতেই ঘটেছে গোটা অশান্তি।
পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য
বগটুই কাণ্ড নিয়ে বিধানসভায় ঘটে যাওয়া অশান্তির জন্য বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দায়ি করলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে অশান্তি করেছে বিজেপি। গোটা ঘটনাটাই ষড়যন্ত্রমূলক। যা বাইরে করছে তাই বিধানসভার অন্দরে করতে চাইছে বিজেপি বিধায়করা। ওর শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে চাইছে। রাজ্যের উন্নয়ন সহ্য করতেনা পেরেই বিরোধীরা এমনটা করছে বলেই কটাক্ষ পার্থর। গোটা ঘটনার তারা সাংবিধানিক ভাবে মোকাবিলা করবেন সেই কথাও জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। বিজেপি গোটা বিষয়টি রাজ্যপালকে জানানো নিয়েও কটাক্ষ করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
শুভেন্দুকে নিশানা ফিরহাদ হাকিমেরও
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় ঘটে যাওয়া অশান্তির জন্য সরাসরি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেই দায়ি করলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এ রকম গুন্ডাবাজি করা বিরোধী দলনেতা আগে কোনও দিন দেখিনি। এই বিধানসভায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। তথ্য দিয়ে সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করতেন। আরও অনেক বিরোধী দলনেতাকে আমরা দেখেছি। কিন্তু এ রকম অরাজকতা সৃষ্টিকারী বিরোধী দলনেতা দেখিনি কখনও।’’
পদ্মশিবিরের ৫ বিধায়ক সাসপেন্ড
বিধানসভায় শাসক-বিরোধী শিবিরের ধস্তাধস্তি-হাতাহাতির ঘটনায় ইতিমধ্যে সাসপেন্ড হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সাসপেন্ড করা হয়েছে আরও চার জন বিজেপি বিধায়ক। মনোজ টিগ্গা, দীপক বর্মা, নরহরি মাহাতো, শঙ্কর ঘোষকে। এদিনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর বিধানসভায় পাঁচ বিজেপি বিধায়কের সাসপেন্ডের প্রস্তাব দেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, “বিধানসভায় এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রবিরোধী। বিধানসভার গরিমা নষ্ট করে।” এর প্রেক্ষিতে সাসপেন্ডের প্রস্তাব দেন ফিরহাদ হাকিম ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়। তারপরই পাঁচ বিধায়ককে সাসপেন্ড করা হয়।
কী ঘটেছে এদিন?
এদিন অধিবেশনের শুরুতেই রামপুরহাট হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিধানসভার ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়করা। এ দিন শুরুতেই বগটুইকাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করে বিজেপি। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনার দাবি জানান হয়। যদিও সেই দাবি খারিজ করে দেন স্পিকার। এরপরই ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়করা। স্পিকারের চেয়ারও ঘিরে ধরেন তাঁরা। অভিযোগ, সে সময় তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক ওই জায়গায় চলে আসেন। শুরু হয় শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের হাতাহাতি। একে অন্যের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন উভয় দলের বিধায়করা।