
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশেই এই দায়িত্ব নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার সেই সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের গঠন করা বিশেষ তদন্ত দল (সিট) নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়।
সোমবার এজলাসে এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা সিটের কয়েকজন আধিকারিকের ভূমিকার সমালোচনা করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী প্রয়োজনে ওই সদস্যদের পরিবর্তন করতে হবে বলেও বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন। এদিকে আজ দুপুরেই সিবিআইকে আদালতে জানাতে হবে, নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে পার্থ – মানিকদের থেকেও গুরুত্বপূর্ণ কারও নাম উঠে এসেছে কি না।
নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে সিবিআই আধিকারিকদের নিয়ে সিট গঠন করেছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। আদালতের নির্দেশ মতো তদন্ত শেষ না হলে ওই আধিকারিকদের বদলি করা যাবে না। দেওয়া যাবে না অন্য কোনও তদন্তের দায়িত্ব। কিন্তু নিজের বাছাই করা আধিকারিকদের ওপর এখন অনাস্থা প্রকাশ করছেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ই।
গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ইডি’র হাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর একে একে মানিক ভট্টাচার্য, সুবীরেশ ভট্টাচার্য, এসপি সিনহা, অশোক সাহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটরা গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। তারই মধ্যে রমেশ মালি, লক্ষ্মী তুঙ্গা, সৌমেন নন্দীর আনা মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে সেই মামলা ফেরত এসেছে হাইকোর্টে। ওই মামলাগুলির শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের আইনজীবীদের খোঁজ করেন বিচারপতি। কিন্তু সিবিআইয়ের তরফে কোনও তদন্তকারী অফিসার উপস্থিত না থাকায় তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি। প্রসঙ্গত এই প্রথম নয়, এর আগেও সিবিআই-এর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি৷ আদৌ প্রকৃত দোষীরা শাস্তি পাবেন কি না, মামলার শুনানি চলাকালীন তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে৷