
I-PAC অফিস ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ED-র হানা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে পৌঁছে গিয়েছেন আইপ্যাক অফিসে। ইডি-র বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করছেন। এহেন আবহে গোটা বিষয় নিয়ে বিবৃতি দিল ইডি। ইডি-র স্পষ্ট অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পুলিশের অফিসাররা ইডি-র উদ্ধার করা নথি কেড়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। একই রকম অভিযোগ মমতারও। তাঁরও দাবি, তৃণমূলের সব নথি লুঠ করে ছিনিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে ইডি।
I-PAC অফিসে তল্লাশি কয়লা পাচার মামলার তদন্তেরই অংশ
বিবৃতিতে ইডি জানিয়েছে, কলকাতা I-PAC অফিসে তল্লাশি কয়লা পাচার মামলার তদন্তেরই অংশ। মমতা দাবি করেছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের সব গুরুত্বপূর্ণ নথি, হার্ডডিস্ক, আর্থিক নথি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছে ইডি। প্রায় একই রকম পাল্টা অভিযোগ করল কেন্দ্রীয় এজেন্সিও। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনই I-PAC অফিস থেকে বেরিয়ে গেলেন ইডি অফিসাররা।
গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন: ED
ইডি বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'আজকের তল্লাশির সঙ্গে কোনও রাজনীতি বা নির্বাচনের যোগ নেই। এই তল্লাশি পুরোপুরি তথ্যভিত্তিক এবং কোনও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে টার্গেট করা নয়। বর্তমানে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চলছে। এর মধ্যে ৬টি পশ্চিমবঙ্গে এবং ৪টি দিল্লিতে। এই তল্লাশি বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে যুক্ত। তল্লাশির আওতায় রয়েছে এমন সব জায়গা, যেখানে নগদ অর্থ সংগ্রহ, হাওয়ালা লেনদেন এবং আর্থিক কারচুপির সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপের সন্ধান মিলতে পারে। কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। এই তল্লাশির সঙ্গে কোনও নির্বাচন সম্পর্কিত যোগ নেই। এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানগুলিরই অংশ। সমস্ত আইনি সুরক্ষা ও প্রক্রিয়া মেনেই এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে ১০টি জায়গার মধ্যে ২টি জায়গায় কিছু ব্যক্তি, যাদের মধ্যে সাংবিধানিক পদাধিকারীও রয়েছেন। নিজেদের পদমর্যাদা অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নথি ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ
ইডি বিবৃতিতে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নথি ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেছেন। একেবারে নাম করে। ইডি বিবৃতি জানিয়েছে, 'আমাদের তল্লাশি যখন চলছিল, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, দক্ষিণ কলকাতা এবং সরণি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক একজন পুলিশ কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে আসেন কর্মকর্তাদের পরিচয় যাচাই করার জন্য। কিছুক্ষণ পর কলকাতার পুলিশ কমিশনারও একাধিক পুলিশ আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। আমাদের আধিকারিকরা তাঁদের পুরো বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানান এবং নিজের পরিচয়পত্রও দেখান। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক পুলিশ অফিসারকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত পুরো তল্লাশি প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে চলছিল। মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢোকেন এবং সেখানে থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, যার মধ্যে কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ছিল, ছিনিয়ে নিলেন। এরপর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় আইপ্যাক এর অফিসে যান। সেখান থেকেও তিনি ও তাঁর সহযোগী এবং রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোরপূর্বক বিভিন্ন নথি ও ইলেকট্রনিক প্রমাণ সরিয়ে নিয়ে যান।'