
Firhad Hakim: রমজানে আজানের সময় মাইক বন্ধ রাখা নিয়ে বিতর্ক উত্তরপ্রদেশে। এবার সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হলেন ফিরহাদ হাকিম। সরাসরি উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন কলকাতার মেয়র। ধর্মীয় অধিকারে বৈষম্যের অভিযোগ তুললেন তিনি।
রমজান মাসে আজানের সময় মাইক্রোফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে উত্তরপ্রদেশ সরকারের কড়া সমালোচনা করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী। তাঁর অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা খর্ব করছেন যোগী আদিত্যনাথ।
ফিরহাদ বলেন, 'আজানের সময় লাউডস্পিকার বাজানো যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্টই সেই নির্দেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও যোগী আদিত্যনাথ সাংবিধানের বাইরে হিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছেন।' তাঁর দাবি, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া গণতন্ত্রের পরিপন্থী।
পুরমন্ত্রীর অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোয় আঘাত হানে। তিনি বলেন, ভারতের সংবিধান এবং হাজার বছরের ঐতিহ্য সব ধর্ম ও জাতির মানুষকে এক সঙ্গে থাকার শিক্ষা দেয়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে যা ঘটছে, তা সেই ঐতিহ্যের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তে সমাজে বিভাজন তৈরি হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।
ফিরহাদ হাকিম বলেন, 'আমরা বলি, Love for all, hatred for none। ভারতের নাগরিকরা দেশের যে কোনও প্রান্তে বসবাস করতে পারেন। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যগুলিতে যা হচ্ছে, তা অন্যায় এবং অত্যাচার।'
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্নে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট ধর্ম বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া সংবিধানের মৌলিক নীতির বিরোধী।
উত্তরপ্রদেশে আজান ও লাউডস্পিকারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ফিরহাদ হাকিমের এই মন্তব্যের ফলে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকার বা বিজেপির তরফে এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।