Advertisement

1991 Gulf War and West Bengal: ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে জ্বালানি সঙ্কট কীভাবে সামলেছিল বাম সরকার?

এখন প্রশ্ন হল, ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের জেরে পশ্চিমবঙ্গে যে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, ১৯৯১ সালে কি এই রকম পরিস্থিতি হয়েছিল? কীভাবে মোকাবিলা করেছিল তত্‍কালীন বাম সরকার?

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ও পশ্চিমবঙ্গ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ ও পশ্চিমবঙ্গ
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 12 Mar 2026,
  • अपडेटेड 2:45 PM IST
  • উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কী ব্যবস্থা নিয়েছিল বাম সরকার?
  • গাল্ফ ওয়ার ও সাদ্দাম হোসেন
  • চিন পর্যন্ত অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়

উপসাগরীয় যুদ্ধ বা গাল্ফ যুদ্ধের ৩ দশক পরে মধ্যপ্রাচ্য আবার জ্বলছে। ১৯৯১ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও বিশ্বে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছিল। ভারতের কাছে সেই সময়টা ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ওই সময় দেশের অর্থমন্ত্রী ছিলেন মনমোহন সিং। এখন প্রশ্ন হল, ২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের জেরে পশ্চিমবঙ্গে যে জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে, ১৯৯১ সালে কি এই রকম পরিস্থিতি হয়েছিল? কীভাবে মোকাবিলা করেছিল তত্‍কালীন বাম সরকার?

উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় কী ব্যবস্থা নিয়েছিল বাম সরকার?

bangla.aajtak.in-কে বাম নেতা রবীন দেব জানালেন, তখন রান্নার গ্যাস সব ঘরে পৌঁছয়নি। কিন্তু কেরোসিন ব্যবহার করা হত। বাম সরকার রাজ্যের তরফে যে সেস থাকে,তা তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, 'তখন পেট্রোল ও ডিজেলের দামের অনেক পার্থক্য ছিল। তখন ৫ টাকা ৩৫ পয়সা লিটার ছিল ডিজেলের দাম, ১২টাকা ৬০ পয়সা ছিল পেট্রোলের দাম। সেই সময় আমরা ধর্মঘট ডেকেছি, প্রতিবাদ করেছি, আবার সরকার রিলিফ দিয়েছে। তখন সেস ছাড় দিয়েছিলাম আমরা। রান্নার গ্যাসের দাম পারলে রাজ্য সরকার নিজের সেস ছেড়ে দিক। প্রতিবাদও করেছি আবার মানুষের স্বার্থে রাজ্যের যা ক্ষমতা ছিল, সেই সময় রিলিফ দিয়েছি।'

রবীন দেবের কথায়,  'তখন তো কেরোসিন ব্যবহার হত বেশি। এখন দেখুন কেরোসিনের দাম। আমরা কেরোসিনে রিলিফ দিতাম। জ্বালানি বলতে যা বোঝায়, আগে কেরোসিনে ভর্তুকি দিয়েছি। সেই ভর্তুকি তুলে দেওয়া হল ধাপে ধাপে। গরিব মানুষ রিলিফ পাচ্ছে না। আগে জিনিসের দাম বাড়ত বছরে একবার বাজেটের সময়। এখন এনি ডে ইজ ট্যাক্স ডে। যে কোনও দিন দাম বাড়ে। আগে মানুষ পরিকল্পিত ভাবে চলতে পারত।  এখন যখন ইচ্ছে বাড়াচ্ছে।'

১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের একটি ছবি: আর্কাইভ

গাল্ফ ওয়ার ও সাদ্দাম হোসেন

ইতিহাসে তেল ডিপো বিস্ফোরণের প্রভাবের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় ১৯৯১ সালের কুয়েতের ঘটনা। ইরাকের তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনের ‘স্কর্চড আর্থ’ নীতি মেনে, পরিকল্পিতভাবে ৭০০-রও বেশি তেল ডিপোতে বিস্ফোরণ ঘটায়। আগুন লাগতে শুরু করে ১৯৯১ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে, যখন মিত্রবাহিনীর স্থল অভিযান শুরু হয়। ধ্বংসের মাত্রা ছিল প্রায় অকল্পনীয়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা আগুনের কাছে পৌঁছনোর আগেই প্রতিদিন জ্বলন্ত তেল ডিপোগুলি বায়ুমণ্ডলে প্রায় ৪০ হাজার টন সালফার ডাই-অক্সাইড, ৩ হাজার টন হাইড্রোজেন সালফাইড এবং ৫ লক্ষ টন কার্বন মনোক্সাইড ছড়াচ্ছিল। গবেষণা সংস্থা টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ওই আগুনের ফলে প্রায় ৫০ হাজার টন তৈলাক্ত কালো ধোঁয়ার কণা আরব উপসাগর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

Advertisement
১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের একটি ছবি: আর্কাইভ

চিন পর্যন্ত অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়

প্রায় ২,৭০০ কিলোমিটার দূরে হিমালয় অঞ্চলেও ‘কালো বৃষ্টি’ (ব্ল্যাক রেন) দেখা গিয়েছিল। অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, চিন পর্যন্ত অ্যাসিড বৃষ্টির প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি হয়। আগুন জ্বলতে থাকার সময় প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল নষ্ট হয়। পরে NASA জানায়, ধোঁয়া ও তেল মরুভূমির বালির সঙ্গে মিশে শক্ত স্তর তৈরি করেছিল, যাকে ‘টারক্রিট’ বলা হয়। এর ফলে কুয়েতের প্রায় ৫ শতাংশ ভূখণ্ড ঢেকে গিয়েছিল। ১৯৯১ সালের নভেম্বর মাসে শেষ তেল ডিপোর আগুন নিভিয়ে দেওয়ার পরও প্রায় ৩০০টি তেলের হ্রদ (অয়েল লেক) রয়ে গিয়েছিল। আগুন নেভাতে মোট খরচ হয়েছিল প্রায় ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

Read more!
Advertisement
Advertisement