
শুরু হয়েছিল সেই কোডিড অতিমারী পর্বে। তারপর থেকে একটা দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি যাদবপুরের শ্রমজীবী ক্যান্টিন। বামেদের এই ক্যান্টিনের খাবার খেয়েই দু'বেলা দিন গুজরান করেন বহু গিগ ওয়ার্কার, একাকী বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, রিকশা কিংবা টোটোচালক। LPG-র আকালে সঙ্কট নেমে এসেছে এই ক্যান্টিনের হেঁশেলেও। তবে কি বন্ধ হয়ে যাবে শ্রমজীবী ক্যান্টিন? bangla.aajtak.in-এ কী জানালেন কর্তৃপক্ষ?
CPIM-এর কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলী তথা রাজ্য কমিটির সদস্য সুদী সেনগুপ্ত বলেন, 'শনিবার পর্যন্তই রান্না হবে। আমাদের প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জনের খাবার তৈরি করা হয়। এক থেকে দেড়টি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে রোজ। আর একদিনের মতোই স্টক রয়েছে।' তবে কি ক্যান্টিন বন্ধ করে দিতে হবে? সুদীপ বলেন, 'আমাদের দলের কর্মীরা, স্বেচ্ছাসেবক নিজেদের বাড়ি থেকে সিলিন্ডার দিয়ে সাহায্য করছেন। তাতে যতটা চালানো সম্ভব চালাব। এত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কাঠকয়লার উনুনে রান্নার ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। দেখা যাক কী করা যায়।'
তবে কি মেনুতে কাটছাঁট?
প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ লোকের জন্যই ভাত, ডাল, সবজি হয়। সঙ্গে থাকে ডিম, মাছ কিংবা মাংস। সুদীপ সেনগুপ্ত বলেন, 'কালকে ডাল, আলু ভাতে আর ডিম সিদ্ধ দিয়ে দেব। তাতে গ্যাস কিছুটা কম লাগবে। এভাবেই ম্যানেজ করতে হবে। তরকারি আর ডিমের ঝোল দু'টো না করে, একটা আইটেম করে কিছুটা গ্যাস বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে। তবে নিরামিষ খাবার আমরা দিই না, প্রতিদিনই আমিষ খাবার দেওয়া হয়।'
বিকল্প কী ভাবনা?
জ্যোতিদেবী শ্রমজীবী এই ক্যান্টিন যাতে বন্ধ না করতে হয়, তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালাচ্ছেন পার্টি কর্মীরা। সুদীপ সেনগুপ্ত ফেসবুক ওয়ালেও লিখেছেন, 'যত টাকাই লাগুক, ইন্ডাকশান ওভেন আর প্রয়োজনীয় বাসন সহ বিকল্প কিছু করা যায় কি না, তারও খোঁজ চালানো হবে।' চারিদিকে যখন LPG-র জন্য হাহাকার তখন কোডিভ কালের মতো এবারও দরিদ্র ও একাকী প্রবীণদের সহায় হতে চাইছে যাদবপুরের এই শ্রমজীবী ক্যান্টিন।