
আইসিসি (অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার বিকেলে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের মাঝে পড়ে জখম হলেন দুই অধ্যাপক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে।
জানা গিয়েছে, আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে একটি প্রস্তুতি সভা শেষ হওয়ার পর সায়েন্স-আর্টস মোড়ের কাছে দুই ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় মধ্যস্থতা করতে এগিয়ে যান অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ ও ললিত মাধব। অভিযোগ, গোলমালের মধ্যেই তাঁরা আক্রান্ত হন।
দু’জনকেই তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ললিত মাধব প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছাড়া পেলেও রাজ্যেশ্বর সিংহের চোট গুরুতর। তাঁর চোখে ঘুষি মারা হয়েছে, চশমার কাচ ভেঙে নাকেও আঘাত লেগেছে। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি দুই পক্ষের অন্তত ছ’জন পড়ুয়াও জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
হাসপাতাল থেকে রাজ্যেশ্বর সিংহ জানান, দুই ছাত্রদলের বিবাদ থামাতেই তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, বিবদমান ছাত্ররা নয়, বাইরে থেকে আসা এক ছাত্র আচমকাই তাঁকে আক্রমণ করে। পরে সংশ্লিষ্ট ছাত্ররাই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘উই দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’ (ডব্লিউটিআই) এবং এসএফআইয়ের মধ্যে কয়েক দিন ধরেই আইসিসি নির্বাচন ঘিরে চাপানউতোর চলছিল। এসএফআইয়ের দাবি, প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ, ডব্লিউটিআইয়ের কয়েকজন পড়ুয়া প্রথম বর্ষের ছাত্রদের হুমকি দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এসএফআইয়ের পক্ষ থেকে দর্শন বিভাগের ছাত্র উজান ও সমাজবিদ্যার ছাত্র রূপম সিকদারের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও ডব্লিউটিআইয়ের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনা প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'শিক্ষকেরা ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁদের আক্রান্ত হতে হয়েছে, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।' সন্ধে পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
যাদবপুরে ছাত্র রাজনীতি ঘিরে উত্তেজনা নতুন নয়। তবে এভাবে অধ্যাপক নিগ্রহের ঘটনাকে নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন শিক্ষকদের একাংশ। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন পার্থপ্রতিম বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'গত এক দশকে এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। স্বাভাবিকভাবেই এর প্রভাব ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের ওপর পড়বে।'