
কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনে আত্মহত্যার ঘটনা ক্রমশ ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। গত মাত্র ৯০ দিনে মেট্রোর সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন ৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর দু’জনকে কোনওমতে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বৃদ্ধি, সচেতনতামূলক প্রচার, এমনকি হেল্পলাইন নম্বর টাঙিয়েও এই প্রবণতা ঠেকানো যাচ্ছে না বলে জানাচ্ছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।
প্রায় প্রতিটি ঘটনার জেরে অন্তত এক ঘণ্টা করে ব্যাহত হয়েছে মেট্রো পরিষেবা। তৃতীয় লাইনের বিদ্যুৎ বন্ধ করে লাইনে ঝাঁপ দেওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে সময় লেগে যায়, যার ফল ভোগ করতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। সকাল-বিকাল, অফিস যাওয়া বা ফেরা, কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই, যে কোনও সময়েই ঘটছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। এতে যাত্রীদের বিরক্তির পাশাপাশি মানসিক চাপ বাড়ছে মেট্রোর চালকদের উপরও।
মেট্রো সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ৩টি, ডিসেম্বর মাসে ২টি, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৩টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ১টি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। জানুয়ারিতে দু’টি ক্ষেত্রে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়। তবে প্রতিটি ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট চালককে সাময়িকভাবে ডিউটি থেকে সরিয়ে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়।
ময়দান, মাস্টারদা সূর্য সেন, নেতাজি, গিরিশ পার্ক, একাধিক স্টেশনেই এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আত্মহত্যা রুখতে কালীঘাট স্টেশনে গার্ডরেল বসানো হয়েছিল। তার পর থেকে সেখানে আর কোনও ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বাকি স্টেশনগুলিতে এই ব্যবস্থা চালু হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেই। অনেকের মতে, বিষয়টি আপাতত ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালে মেট্রোয় আত্মহত্যা করেছিলেন ৫ জন, ২০২৩ সালে ৪ জন, ২০২৪ সালে ৭ জন। আর ২০২৫ সালের শেষের দিক থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ৮ জন ঝাঁপ দিয়েছেন। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০২৫ সাল থেকেই এই প্রবণতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
মানসিক অবসাদ রুখতে প্রতিটি স্টেশনে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার হেল্পলাইন নম্বর প্রচার করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য, সমস্যায় থাকা কেউ অন্তত একবার ফোন করলে তাঁকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে আত্মহত্যার পথ থেকে ফেরানো যাবে। কিন্তু বাস্তবে কেউই সেই নম্বরে ফোন করছেন না। ফলে কলকাতা মেট্রোর পাতালপথে আত্মহত্যার ঘটনা যেন ধীরে ধীরে রুটিনে পরিণত হচ্ছে, যা কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি গোটা শহরের জন্যই গভীর উদ্বেগের কারণ।