
কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো কমিশনার পদে নিযুক্ত হলেন এক মহিলা। স্মিতা পান্ডে। বুধবার ইলেকশন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে কলকাতা কমিশনার বা নির্বাহী প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। একইসঙ্গে তিনি উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকের দায়িত্বও পালন করবেন। কারণ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কেএমসি কমিশনারই এই পদে থাকেন।
২০০৫ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক স্মিতা পান্ডে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে এই পদে দায়িত্ব নিলেন। তিনি ২০১৩ ব্যাচের আইএএস অংশুল গুপ্তর জায়গায় এসেছেন। যিনি সম্প্রতি এই পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, তিনিই কলকাতা পুরসভার প্রথম মহিলা কমিশনার।
প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে এই দায়িত্ব তাঁর কাছে নতুন নয়। এর আগে তিনি ‘কলকাতা এনভায়রনমেন্ট ইমপ্রুভমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম’ (KEIIP)-এর প্রকল্প অধিকর্তা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর ও উত্তর দিনাজপুর জেলার জেলাশাসক কেএমডিএ-র বিশেষ সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষাগত দিক থেকেও তিনি সমানভাবে উজ্জ্বল। লখনউ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
আগামী দিনে তাঁর কাঁধে একসঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব-একদিকে পুরনিগমের প্রশাসনিক কাজ, অন্যদিকে নির্বাচন পরিচালনা। উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট প্রক্রিয়ার তদারকি করতে হবে তাঁকে। একইসঙ্গে অর্থবর্ষের শেষে সম্পত্তি কর আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজও সামলাতে হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৫১ সাল থেকে কেএমসি-র নির্বাহী প্রধান হিসেবে কমিশনাররাই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তারও আগে এই পদটি ‘মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক’ নামে পরিচিত ছিল, এবং সেই পদে একসময় অধিষ্ঠিত ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।