
সাইবার জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ ও প্রশ্নের দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে ২৪ ঘণ্টার সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন চালু করল কলকাতা পুলিশ। মঙ্গলবার লালবাজারে সাইবার থানায় এই হেল্পলাইনের উদ্বোধন করেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার সুপ্রতিম সরকার।
কলকাতা পুলিশের আওতাভুক্ত নাগরিকদের জন্য চালু হওয়া টোল-ফ্রি নম্বরটি হল ১৮০০-৩৪৫০০৬৬। এই নম্বরে দিনরাত যেকোনও সময় ফোন করে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সাহায্য চাওয়া যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার বলেন, 'সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রেও একটি ‘গোল্ডেন আওয়ার’ থাকে। প্রতারণার পর প্রথম এক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়েই প্রতারকরা সবচেয়ে সক্রিয় থাকে এবং খুব দ্রুত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে ফেলে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কেউ প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জানান। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব সমস্যার সমাধান ও অর্থ উদ্ধারের।'
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হেল্পলাইন জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালের বিকল্প নয়। তবে কোনও ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হলে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে এবং কীভাবে অর্থ আটকে দেওয়ার চেষ্টা করা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশ দেবে এই পরিষেবা।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত তারা সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় প্রায় ২৫ শতাংশ অর্থ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই হার আরও বাড়ানো সম্ভব হবে বলেই আশাবাদী কর্তৃপক্ষ।
লালবাজার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে ১,০০০ থেকে ১,২০০টি সাইবার অপরাধের অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত। বাকি ২০ শতাংশ অভিযোগ ছদ্মবেশ ধারণ, পরিচয় চুরি বা সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত।
বিশেষ ট্র্যাকিং ও ব্লকিং সেল
হেল্পলাইনের পাশাপাশি একটি বিশেষ ব্লকিং সেলও গঠন করেছে পুলিশ। এই ইউনিট সাইবার অপরাধে ব্যবহৃত ফোন নম্বর, সিম কার্ড, এপিকে (APK) ফাইল, আইপি ঠিকানা ও ইউআরএল নজরদারিতে রাখবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল উপাদান শনাক্ত করে তা ব্লক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে একই মাধ্যমে আর প্রতারণা না ঘটে।
সচেতনতা বাড়াতে ‘সাইবার পাস’
সাইবার অপরাধ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ‘সাইবার পাস’ নামে একটি নিউজলেটারও প্রকাশ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। নিরাপদ অনলাইন লেনদেন, ফিশিং প্রতারণা, ভুয়ো লিংক বা অ্যাপ থেকে সতর্ক থাকার উপায়, এই সব বিষয় নিয়ে নিয়মিত তথ্য দেওয়া হবে সেখানে।
উল্লেখ্য, ডিজিটাল জালিয়াতির বাড়বাড়ন্তের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্কিং প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে একটি মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। বড় অঙ্কের অস্বাভাবিক লেনদেন হলে গ্রাহকদের সতর্ক করার ব্যবস্থাও তাতে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।