
শহরের রাস্তার আলো ব্যবস্থা আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উদ্যোগী হল কলকাতা পুরসভা। প্রায় ৩ লক্ষ স্ট্রিট লাইটের ওপর নির্ভরশীল এই মহানগরে যেকোনও সময় প্রায় ৫ শতাংশ আলো বিকল থাকে। ত্রুটির খবর দেরিতে পৌঁছনোর ফলে মেরামতেও দেরি হয়। এই সমস্যার সমাধানেই স্মার্ট ও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষিত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে পুরসভা।
পুরসভার আলো বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ সন্দীপ রঞ্জন বক্সি জানান, এমন একটি সিস্টেম আনার কথা ভাবা হচ্ছে যাতে কোনও রাস্তার আলো নিভে গেলে সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা তৈরি হবে। এর ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আইটি পরিষেবা সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস)-এর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরকে চারটি জোনে ভাগ করে প্রতিটি জোনাল অফিসে একটি মনিটরিং প্যানেল বসানো হবে। সেখানে ত্রুটির সতর্কবার্তা সরাসরি দেখা যাবে।
প্রথমে আলিপুর ও কালীঘাট এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করার ভাবনা রয়েছে। ফল সন্তোষজনক হলে তা ধাপে ধাপে গোটা শহরে কার্যকর করা হবে।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় এই পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়। তবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই সূত্রের দাবি। বছরের শেষে পুরভোটের আগে কিছুটা এগোনো যেতে পারে।
এদিন বাজেট আলোচনা ঘিরে পুরসভায় শাসক তৃণমূল ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাগ্বিতণ্ডাও হয়। এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের বিক্ষোভ শুরু হলেি চেয়ারপার্সন মালা রায় হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি সামাল দেন।
আলোচনায় সিপিএম কাউন্সিলর নন্দিতা রায় বাজেটের একাধিক ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, পুরসভার শূন্যপদের সংখ্যা বাজেটে উল্লেখ নেই। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে পরিষেবা ব্যাহত হবে, বিশেষ করে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায়, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া ১০০ দিনের কর্মীদের কথা বাজেটে না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। এই কর্মীরাই ঘরে ঘরে গিয়ে রোগ নজরদারির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন। তাঁদের কাজের শর্ত ও ছুটির বিষয়েও নজর দেওয়ার দাবি তোলেন রায়। বাজেট নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবারও চলবে। শেষে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের জবাবের মধ্যে দিয়ে অধিবেশন শেষ হওয়ার কথা।