
একাংশের মতে, আস্থাভাজন হওয়ার পুরস্কার। আবার কোনও কোনও মহলের দাবি, মমতার মাস্টারস্ট্রোক। রাজ্যের প্রাক্তন DGP রাজীব কুমারের রাজ্যসভায় মনোনয়ন এখন চর্চার বিষয়। কিন্তু যে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে একটা সময়ে বিষোদগার করেছিলেন কুণাল ঘোষ, দল তাঁকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ার কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের?
বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন কুণাল
কুণাল ঘোষ ও রাজীব কুমার। দু’জনের সম্পর্ক যে এককালে তিক্ত ছিল, তা কারও অজানা নয়। সারদা মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন জেলবন্দি ছিলেন কুণাল ঘোষ। সে সময়ে রাজ্যের গঠিত SIT-এর নেতৃত্বে ছিলেন রাজীব কুমার। গ্রেফতার হওয়ার পর একাধিকবার রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে শোনা গিয়েছে কুণালকে। সারদা মামলায় নাম জড়ানোর পর এই IPS-এর সঙ্গে তৃণমূল নেতাকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরাও করেছিল CBI।
কুণালের অভিযোগ ছিল, মুকুল রায়ের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। মুকুলের স্বার্থরক্ষায় রাজীব কুমারের নেতৃত্বাধীন SIT তাঁকে গ্রেফতার করে বলেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পরবর্তীকে CBI তদন্তের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বারাবার অভিযোগ করেন, রাজীব কুমার তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন এবং মুকুল সহ একাধিক প্রভাবশালীকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। সারদা কাণ্ডে তাঁকেই একমাত্র বলি করা হয়েছিল বলেও বিস্ফোরক দাবি ছিল তৃণমূল নেতার। বাঁচানো হয়েছিল মুকুল রায়কে। সংবাদমাধ্যমে কাঁদো কাঁদো গলায় কুণালকে বলতে শোনা গিয়েছিল, 'মুকুল রায়ের কথায় বিধাননগর কমিশনারেটের রাজীব কুমার ওঠাবসা করেন। আমাকে গ্রেফতার করুক, আমি আগাম জামিন নেব না। মমতাদি পুলিশ পাঠিয়ে আমায় ধরে নিয়ে যাক।'
সদ্য মুকুল রায়ের প্রয়াণের পরও সেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। তিনি এক্স পোস্ট করে বলেছিলেন, 'ও আমার ক্ষতি করার কারিগর। CBI-কে মিথ্যা বয়ান দিয়ে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।' যদিও সেই পোস্টে রাজীব কুমারের নামে কোনও শব্দ খরচ করেননি কুণাল।
রাজীবের রাজ্যসভায় মনোনয়ন নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া
বিষোদগার, অভিযোগ, এসব এখন অতীত বলেই মনে করছেন কুণাল ঘোষ। 'পাল্টি' খেয়ে এখন তাঁর কাছে, রাজীব কুমার সেরা মনোনয়ন। bangla.aajtak.in-কে এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বলেন, 'এই মুহূর্তে যাঁরা সেরা, যাঁদের সংসদে পাঠানো প্রয়োজন, নিশ্চিত ভাবেই তাঁদের পাঠাচ্ছে তৃণমূল। খুব ভাল প্রার্থী হয়েছে। ৪ জনই ভাল প্রার্থী।' পুরনো অভিযোগ নিয়ে অবশ্য মাথা ঘামাতে চাননি তিনি। কুণাল কিছুটা তাচ্ছিল্যের স্বরেই বলেন, 'সেগুলো সব কোন সময়ের কথা। একটা সময় তো শুভেন্দু অধিকারীও নরেন্দ্র মোদী আর অমিত শাহের সমালোচনা করেছিলেন। ফলে সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে আজকের বিচার হবে নাকি। ওটা একটা পার্ট, এটা আলাদা পার্ট। রাজীব কুমার একজন অত্যন্ত দক্ষ অফিসার, তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠবে না। আমাদের দল, আমাদের নেত্রী সেরাদেরই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন।'