
আরও একবার সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন, ফিরহাদ হাকিমকে গ্রেফতার করতে পারে ইডি-সিবিআই। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভামঞ্চে তিনি জানালেন, ববিকে গ্রেফতার করলে বুঝবেন সবটা সাজানো।
সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে বিজেপির যোগসাজশের অভিযোগ করেন মমতা। তিনি বলেন,'সাধারণ মানুষকে বলব মিডিয়ার কথায় ভুলবেন না। মিডিয়া বিজেপির কথায় প্ল্যানিং করে। বলুন তো কালকে উনি অ্যারেস্ট হবে মিডিয়া আগে জানল কী করে? ইডি-সিবিআই জানবার আগে? ওদের সঙ্গে মিডিয়ার একটা সমঝোতা আছে। তাই মিডিয়া ট্রায়াল চলছে। তাই আপনাদের কাছে বলব, একটা কথাও ওদের বিশ্বাস করবেন না। হঠাৎ যদি দেখেন ববির সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছে তাই অ্যারেস্ট করেছে। বুঝবেন সবটা সাজানো। টোটালটা মিথ্যা। টোটালটা নাটক।'
এ দিন পার্থ ও অনুব্রতর গ্রেফতারি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর কথায়,'২১ জুলাইয়ের পর ২২ তারিখ মধ্যরাতে পার্থদার বাড়িতে হাজির হলে। তুমি আগেও করতে পারে। দেখে নেব কেসে কী আছে। কেষ্টর মতো সাহায্যকারী ছেলে আমি খুব কম দেখেছি। অভিষেক ভাল বক্তৃতা দিয়েছে। কাল না ওঁকে নোটিস ধরায়। আগে ওঁকে আর বউকে নোটিস দিয়েছে। আগামী দিনে ২ বছরের বাচ্চাকেও নোটিস ধরাবে। যখন ডাকবে ওকে সঙ্গে করে নিয়ে যাস। যাতে বুঝতে পারে বাচ্চাটা কতটা সট্রং!'
দলের ছাত্র-যুবদের নেত্রীর বার্তা,'টিভির কথা শুনে বিশ্বাস করবেন না। সংবাদমাধ্যমকে বিজেপি কিনে নিয়েছে। মাথায় কিছু ঢুকল? সংবাদমাধ্যম, ইডি, সিবিআই, আয়কর দফতর থেকে আরও অনেক কিছু কিনে নিয়েছে। বিচার পাওয়ার জায়গা যেখানে নেই সেখানে রাস্তাই আমাদের রাস্তা দেখাবে।'
শিক্ষক নিয়োগ 'দুর্নীতি' নিয়ে অপপ্রচার চলছে বলেও দাবি মমতার। তাঁর কথায়,'শিক্ষা নিয়ে অপপ্রচার করছেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। সেনিয়ে কথা বলব না। আমাদের কত ছেলেমেয়েরা চাকরি পেয়েছে! তোমাদের আমলে ক'জন পেয়েছে? ওই অধিকারীরা রোজ আমায় বলত। সিস্টেমটা ওরা ভাল জানে। এই চেয়ারে না থাকতে বোনেদের বলতাম, যারা মিথ্যা রটায় তাদের জিভগুলি টেনে ছিঁড়ে ফেলতে। মিডিয়া ট্রায়াল চলছে। কোনও বিচার হয়নি। বিজেপি যা মিডিয়াকে বলবে সেটাই করবে। সবাইকে পরাধীন করে দেওয়া হয়েছে। মাত্র ১০ বছরে আমরা ১ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৭০ চাকরি দিয়েছি শুধু শিক্ষায়। অভিযোগ গিয়েছে কটা? দু-আড়াই হাজার। তাও বলেছিলাম করে দেব। হাতে আছে ৮৯ হাজার ৩৫ শূন্যপদ। এটাও এতদিন হয়ে যেত।'