
৪০ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে সল্টলেকে I-PAC-এর অফিসে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে সময়ে তল্লাশি চালাচ্ছিল ED আধিকারিকরা। অফিস থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, 'সব টেবিল ফাঁকা, সব লুটে নিয়েছে। এটা একটা ক্রাইম।'
IPAC অফিস থেকে কী কী নিয়েছে ED?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, I-PAC অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ED নিয়ে গিয়েছে, নির্বাচনী স্ট্র্যাটেজি, ফিন্যান্সিয়াল পেপার, ভোটার লিস্ট, ভোটার ডেটা, প্রার্থী তালিকা, SIR-এর কাগজপত্র, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস, নির্বাচনী সাজেশন সহ একাধিক নথি নিয়ে গিয়েছে। ED ফরেন্সিক টিম এই নথিগুলি নিয়ে গিয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
তাঁর কথায়, ‘BJP-র মতো এত বড় ডাকাত দেখনি। ভোর থেকে অপারেশন চালু করেছে। সকাল ৬টার সময়ে এখানে এসেছে। আমাদের সঙ্গে চিটিং করলে, জুয়া খেললে মেনে নেব না।’
অমিত শাহের উদ্দেশে কী বলেন মমতা?
মুখ্যমন্ত্রী এদিন তীব্র আক্রমণের সুরে বলেন, 'অমিত শাহ আপনি বাংলা জিততে চাইলে রাজনৈতিক লড়াই করুন, কেন আমাদের IT অফিস রেড করে সব লুটে নিলেন? কেন এমন একটি সফটওয়্যার অ্যাপ ব্যবহার করে বাংলার ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম ডিলিট করিয়ে দিলেন? দেড় কোটি মানুষকে লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে হিয়ারিংয়ের নোটিশ পাঠিয়েছেন? নির্বাচন কমিশন যা করছে BJP-র নির্দেশে করছে। IT অফিসে এভাবে রেড করানো যায়? আমরা যদি পাল্টা ওদের অফিসে রেড করাই? একতরফা কিছু হয় না মনে রাখবেন। এতক্ষণ আমরা ধৈর্য ধরে বসে আছি, বিচার মিলবে আশা করছি। আপনারা আজ সহ্যের সব সীমা পার করে দিয়েছেন।'
কোনও রেজিস্টার্ড অফিসে এভাবে ঢুকে রেড করা ক্রাইম বলেই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অথরাইজড টিম এটা, কোনও বেসরকারি অফিস নয়। আমরা রেজিস্টার্ড পার্টি, আমরা কর দিই, অডিট হয়। BJP-কে তো নোটিশ পাঠায় না IT। মানি পাওয়ার, মাসল পাওয়ার ব্যবহারের চেষ্টা করছে।'
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রতীক জৈন এসে সমস্ত বিষয়গুলি সেটল না করা পর্যন্ত তিনি সল্টলেকে I-PAC অফিসেই থাকবেন।
সল্টেলেকের অফিসে যাওয়ার আগে তিনি প্রতীক জৈনের বাড়িতেও গিয়েছিলেন। সেখানেও ED তল্লাশি চালাচ্ছে। I-PAC প্রধানের বাড়ি থেকে তিনি একটি সবুজ ফাইল, হার্ড ডিস্ক এবং প্রতীকের মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় তাঁকে।